রমজানের আগে যে ১০ টি প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি

অল্প আমলে বেশি সওয়াব পাওয়ার দোয়াবছর ঘুড়ে আবারো আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। মুসলিম বিশ্বজুড়ে মুমিনদের মনে তৈরি হচ্ছে ইবাদতের এক আবহ। এই মাসটি আমাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত, নাজাত ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির সুযোগ নিয়ে আসে।

আর এই মাসের মর্যাদা তো সব মাসের থেকে উত্তম। কারণ এই পবিত্র মাসেই মানবজাতির পথ প্রদর্শক আল-কোরআন নাযিল হয়েছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব রমজানের আগে আমাদের যে ১০ টি প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি।

পেজ সূচিপত্রঃ রমজানের আগে যে ১০ টি প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি

রমজান মাসের পূর্বে বেশি বেশি দোয়া করা

রাসূলুল্লাহ (সা.) শাবান মাস থেকে দোয়া করতেন, 'হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও সাবান মাসের বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। (মুসনাদে আহমাদ:২৩৪৬)। হযরত মাআলা ইবনে ফাদল (রহ.) বলেন, 'সালাফগণ রমজানের ছয় মাস আগে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি তাদের রমজান পাওয়ার তৌফিক দেন। আবার রমজান শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ছয় মাস এই দোয়া করতেন যে আল্লাহ যেন তাদের রমজানের ইবাদতগুলো কবুল করে নেন।' (লাতায়িফুল মাআরিফ)।

রমজান মুমিনের জীবনে ইবাদতের এক উত্তম সময়। এই বরকতময় মাসটি পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আমাদের তৌফিক ও হায়াত কামনা করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা কেউই জানিনা কার হায়াত কতদিন অবশিষ্ট আছে। তাই এই ফজিলতের মাস পাওয়ার জন্য আমাদের বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

 বিশেষ করে এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করুন:

"আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান"

(অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন)

তওবা-ইস্তেগফার করা

রমজানের আগে বছর জুড়ে যেসব ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সেগুলোর জন্য তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। কেউ যদি ভাবে যে 'রমজান চলে এসেছে, আর আমার সব গুনাহ এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে'-বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং আগে থেকে তওবা-ইস্তিগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুব জরুরি। এতে আল্লাহ আপনার আগের সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দ্বারা জীবন সুন্দর করে দেবেন।

রাসুল (সা.) নিস্পাপ হওয়া সত্বেও প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক ইস্তেগফার করতেন। ইস্তেগফার শুধু গুনাহ মাফ করে না, বরং এটি রিজিক বৃদ্ধি এবং দুশ্চিন্তা দূর করার এক অলৌকিক চাবিকাঠি। তাই আসুন, অতীতের সকল ভুলের জন্য লজ্জিত হয়ে আমরা বেশি বেশি 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পাঠ করি এবং দৃঢ় মনে প্রতিজ্ঞা করি যে,আর কোনো পাপাচারে লিপ্ত হবো না। আল্লাহ আমাদের তওবা কে কবুল করুণ। আমিন।

এ জন্য বেশি বেশি ইস্তিগফার পাঠ করতে হবে-আস্তাগফিরুল্লাহ।

(অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন।)

রমজানের ফজিলত ও উপকারিতা জানা

রমজান সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নায় বর্ণিত ফজিলত, মর্যাদা উপকারিতা গুলো আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি। এসব কল্যাণ লাভের জন্য কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী চলার মানসিক প্রস্তুতি ও গ্রহণ করতে হবে।

রমজান মাস হলো তাকওয়া অর্জন এবং গুনাহ মাফের একটি শ্রেষ্ঠ সময়। রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" এই মাসে জান্নাতের দরজা গুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয়। একটি নফল আমল ফরজের সমান এবং একটি ফর ৭০ গুণ সওয়াব বয়া আনে। এ বিশাল প্রতিদিনের কথা অন্তরে ধারণ করলে কোন মুমিন ব্যক্তি অলস হয়ে বসে থাকতে পারে না। 

রোজা আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযম শেখায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, রোজার শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিয়ে দৈহিক সুস্থতা দান করে। তাই রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হলে এর ফজিলত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং সেই অনুযায়ী মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে পবিত্রতা রক্ষার প্রতিজ্ঞা নেওয়া


পূর্বের কাজা রোজা থাকলে সেগুলো আদায় করা


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url