গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয় জানতে চান? হঠাৎ পা ফুলে গেলে অনেক মা-ই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। আসলে সব সময় এটি ভয়ের কারণ নয়, তবে কখন সতর্ক হতে হবে তা জানা খুব জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাস আর ছোট ছোট পরিবর্তন অনেকটাই স্বস্তি এনে দিতে পারে।
গর্ভাবস্থায়-পা-ফুলে-গেলে-করণীয়
কখন এটি স্বাভাবিক আর কখন দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, সেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও এখানে জানতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় নিজের ও শিশুর সুস্থতার জন্য সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর টিপস এখনই দেখে নিন। নিজের ও অনাগত শিশুর সুস্থতার জন্য দরকারি তথ্যগুলো জানুন।

পেজ সূচিপত্রঃ গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয় কী? গর্ভাবস্থায় অনেক মায়েরই পা, গোড়ালি বা আঙ্গুল ফুলে যায়। এটাকে বলা হয় এডিমা। বিশেষ করে শেষের দিকে এটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার, কারণ শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে আর জরায়ুর চাপে রক্ত চলাচল একটু ধীর হয়ে যায়। তবে এটা সাধারণত কোনো বড় সমস্যা নয়। কিন্তু কখনো কখনো এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তাই সবসময় একটু সতর্ক থাকা ভালো। 

প্রথম কথা হলো, যদি ফোলা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়, হাত-মুখও ফুলে যায়, মাথাব্যথা হয়, চোখে ঝাপসা দেখা যায়, বমি ভাব হয় বা রক্তচাপ বেড়ে যায়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে চলে যান। এগুলো প্রি-ইক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা খুবই গুরুতর। নিয়মিত চেকআপ করানোটা একদম জরুরি। আমি ডাক্তার নই, তাই যেকোনো অস্বস্তিতে আপনার গাইনোকলজিস্টের সাথে কথা বলে নিন।

যেসব সাধারণ পদক্ষেপ নিলে ফোলা অনেকটাই কমে যায়, সেগুলো বলছি। এগুলো বেশিরভাগ মায়ের ক্ষেত্রেই কাজ করেঃ

  • দিনে কয়েকবার পা উঁচু করে বিশ্রাম নিন। বসে থাকার সময় একটা স্টুল বা বালিশের ওপর পা তুলে রাখুন, যাতে হার্টের লেভেলের উপরে থাকে। রাতে শোয়ার সময়ও বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে শুতে পারেন। এতে রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং অতিরিক্ত পানি জমা কমে।
  • দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বা পা ঝুলিয়ে বসে থাকবেন না। কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটাহাঁটি করুন বা পায়ের অবস্থান বদলান। কিছুক্ষণ পরপর বসার ভঙ্গি চেঞ্জ করলে অনেক আরাম পাবেন।
  • আরামদায়ক, ঢিলেঢালা জুতা পরুন। টাইট মোজা বা জুতা একদম এড়িয়ে চলুন। অনেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কম্প্রেশন স্টকিংস ব্যবহার করেন। এটা রক্তকে সঠিকভাবে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন অনেক পানি খান-অন্তত ৮-১০ গ্লাস বা ২-৩ লিটার। অদ্ভুত লাগলেও এটা আসলে শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ আর পানি বের করে দেয়।
  • খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন। প্যাকেটজাত খাবার, চিপস, ফাস্টফুড যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন। বরং পটাশিয়াম বেশি আছে এমন খাবার খান-কলা, কমলা, পালংশাক, টমেটো ইত্যাদি। এগুলো শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখে।
  • হালকা ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন বা ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে সাঁতার কাটুন। বসে থেকে পায়ের গোড়ালি ঘোরানো বা আঙ্গুল নড়ানোর মতো সাধারণ এক্সারসাইজও খুব কাজে দেয়।
  • বাম কাত হয়ে শোয়ার চেষ্টা করুন। এতে বড় শিরায় চাপ কম পড়ে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
  • পা ম্যাসাজ করতে পারেন বা কুসুম গরম বা ঠান্ডা পানিতে ১০-১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। এতে তাৎক্ষণিক আরাম মেলে।
এসব অভ্যাস মেনে চললে বেশিরভাগ সময় ফোলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অস্বস্তি কমে। গর্ভাবস্থাটা যেন সুন্দরভাবে কাটে, সেজন্য ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই অনেক সাহায্য করে। তবে কোনো কিছু নিয়ে সন্দেহ হলে সরাসরি ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন!

গর্ভাবস্থায় কেন পা ফুলে এমন হয়?

গর্ভাবস্থায় শরীরটা একটা বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। ছোট্ট শিশুটাকে বড় করার জন্য শরীর নিজে থেকেই অনেক বেশি রক্ত আর পানি তৈরি করে-প্রায় পঞ্চাশ শতাংশের মতো বেশি। এই অতিরিক্ত তরলটা তো শিশুর জন্য দরকারি, কিন্তু সেই সাথে হরমোন প্রোজেস্টেরন নামের যে জিনিসটা বাড়ে, সেটা রক্তনালীগুলোকে একটু ঢিলে করে দেয়। ফলে পানি রক্তনালী থেকে বেরিয়ে টিস্যুতে জমতে শুরু করে। আর যখন জরায়ু বড় হতে থাকে, তখন সেটা পেলভিসের ভেতরের শিরাগুলোতে চাপ দেয়, বিশেষ করে যেগুলো পা থেকে রক্ত ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই চাপের কারণেই পানিটা নিচের দিকে জমে যায়, আর সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পায়ে আর গোড়ালিতে।

এ ছাড়া আরও কয়েকটা সাধারণ কারণ আছে যেগুলো এই ফোলা বাড়িয়ে দেয়। মাধ্যাকর্ষণের টানে পানি সবসময় নিচে নেমে আসে, তাই যদি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকেন, তাহলে তো আরও খারাপ লাগে। গরমের দিনে বা যদি আপনার শরীরে ইতিমধ্যেই সোডিয়াম বেশি থাকে, তাহলে ফোলা আরও বেড়ে যায়। আমার এক বান্ধবী প্রথম প্রেগন্যান্সিতে এটা দেখে এত ভয় পেয়েছিল যে কেঁদে ফেলেছিল, পরে ডাক্তার বলায় জেনেছে এটা তো অনেক মায়েরই হয়। তাই একদম চিন্তা করবেন না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা একেবারে স্বাভাবিক। তবে কেন হচ্ছে সেটা বুঝলে নিজেকে সামলাতে সুবিধা হয়।

এটা স্বাভাবিক নাকি চিন্তার? কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

পা গর্ভাবস্থায় ফুলে যাওয়াটা প্রায় সব মায়ের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিশেষ করে শেষ তিন মাসে। গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয় সবচেয়ে জরুরি কথা হলো অযথা ঘাবড়ে না যাওয়া। বেশিরভাগ সময় এটা একেবারে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে শরীর অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে এবং জরায়ু নিচের শিরাগুলোতে চাপ দেয়। তবে সবসময় যে এটা নিয়ে চিন্তামুক্ত থাকা যাবে তা নয়, তাই কোন লক্ষণগুলো সাধারণ আর কোনগুলো বিপজ্জনক সেটা জেনে রাখা খুবই দরকার। যদি হঠাৎ করে দুই পায়ের সাথে হাত-মুখও ফুলে যায়, তীব্র মাথাব্যথা হয়, চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন অথবা রক্তচাপ অনেক বেড়ে যায়, তাহলে আর অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। 
এগুলো প্রি-ইক্ল্যাম্পসিয়া নামের একটা গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে, যা মা এবং শিশু দুজনের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। আমি সবসময় বলি, এখানে একটু বেশি সতর্ক থাকাই ভালো। একইভাবে যদি দেখেন একটা পা অন্য পায়ের তুলনায় অনেক বেশি ফুলে গেছে, সেখানে ব্যথা হচ্ছে বা গরম লাগছে, তাহলে সেটাও সাধারণ ফোলা নয়। এতে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত প্রেগন্যান্সি চেকআপে ডাক্তারকে পা ফোলার কথা অবশ্যই বলবেন। সন্দেহ হলেই দেরি করবেন না, কারণ সময়মতো চিকিৎসা নিলে সবকিছু সুন্দরভাবে সামলে নেওয়া যায়।

পা ফোলা কমাতে ঘরে বসে কী করবেন প্রথমে

পা ফুলে গেলে গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে সহজ আর কার্যকর উপায় হলো ঘরে বসেই কিছু ছোট ছোট কাজ করে নেওয়া। প্রথম যেটা করবেন, সেটা হলো পা দুটোকে হার্টের লেভেলের উপরে তুলে রাখা। সোফায় আরাম করে শুয়ে পায়ের নিচে দুটো বালিশ বা একটা মোটা কুশন রেখে দিন, যাতে পা একটু উঁচু হয়ে থাকে। দিনে তিন-চারবার করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এভাবে থাকুন। এতে রক্ত চলাচল ভালো হয়, জমে থাকা পানি ধীরে ধীরে ফিরে যায় আর ফোলাটা কমতে শুরু করে। অনেক মা বলেন, সকালে উঠে আর রাতে শোয়ার আগে এটা করলে সারাদিন অনেক হালকা লাগে।
গর্ভাবস্থায়-পা-ফুলে-গেলে-করণীয়
এরপর আরেকটা খুব সাধারণ কিন্তু অসাধারণ কাজ হলো ঠান্ডা পানিতে পা ডুবিয়ে রাখা। একটা বড় বেসিনে ঠান্ডা পানি নিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে বসে থাকুন, এতে ফোলা কমে আর পায়ে একটা শীতল আরাম পাবেন। তারপর হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন-পায়ের আঙুল থেকে উপরের দিকে ধীরে ধীরে চাপ দিয়ে। জোরে চাপ দেবেন না যেন অস্বস্তি না লাগে। আমার কাছে যে মায়েরা আসেন তারা প্রায় সবাই বলেন, এই দুটো জিনিসই প্রথম দিন থেকে অনেকটা স্বস্তি দেয়। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ফোলা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

পা উঁচু করে বিশ্রাম নেওয়ার সেরা উপায়

পা উঁচু করে বিশ্রাম নেওয়া গর্ভাবস্থায় পা ফোলা কমানোর সবচেয়ে আরামদায়ক এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি। গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয় অনেক কিছু থাকলেও এটাই সবচেয়ে প্রথমে এবং সহজে করা যায়। সোফায় বা বিছানায় শুয়ে পায়ের নিচে দুই-তিনটা বালিশ বা মোটা কুশন দিয়ে পা হার্টের লেভেলের উপরে তুলে রাখুন। এতে পায়ে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি ধীরে ধীরে ফিরে যায় এবং ফোলা কমতে শুরু করে। রাতে ঘুমানোর সময় বাম কাত হয়ে শোয়া আর পায়ের নিচে একটা বালিশ রাখলে রক্তচলাচল অনেক ভালো হয়। 

দিনে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৫-২০ মিনিট করে এভাবে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন। বসে থাকার সময়ও পায়ের নিচে ছোট স্টুল রেখে পা একটু উঁচু করে রাখতে পারেন। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চললে পা ফোলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সারাদিন অনেক হালকা অনুভব করবেন।

খাবার-দাবারে কী খাবেন আর কী এড়াবেন

পা ফুলে গেলে খাবার-দাবারের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে ফোলা কমানো যায় কি না। পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন কলা, কমলা, পালং শাক, আলু, টমেটো ইত্যাদি। এছাড়া পর্যাপ্ত প্রোটিন নেওয়া খুব জরুরি-ডিম, দুধ, মাছ, মুরগি বা ডাল থেকে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন প্রচুর পানি খাওয়া। অনেক মা ভাবেন পানি খেলে ফোলা বাড়বে, কিন্তু আসলে উল্টোটা হয়। শরীর যথেষ্ট পানি পেলে অতিরিক্ত তরল ধরে রাখে না। অন্যদিকে লবণের পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে দিতে হবে। 
চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, আচার, প্যাকেটের যেকোনো জিনিস এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয় এর মধ্যে খাবার নিয়ন্ত্রণ করাটা অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায়। ক্যাফেইনযুক্ত চা-কফিও কমিয়ে দিন। যেসব মায়েরা লবণ কম খেয়ে সুষম খাবার খান, তাদের পা ফোলা অনেক দ্রুত কমে যায় এবং সার্বিকভাবে স্বস্তি পান।

হালকা ব্যায়াম আর পায়ের সহজ এক্সারসাইজ

পা গর্ভাবস্থায় ফুলে গেলে হালকা ব্যায়াম করা সত্যিই অনেক সাহায্য করে, কারণ এতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায় আর জমে থাকা পানি ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। বসে বা দাঁড়িয়ে খুব সহজ কয়েকটা এক্সারসাইজ করতে পারেন। প্রথমে পায়ের আঙুলগুলো উপর-নিচ করে ৩০ বার নাড়ান, তারপর পা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মুভ করুন। এগুলো করার সময় জোর করে কিছু করবেন না, শুধু আরাম লাগে এমনভাবে। অনেক মা আমাকে বলেন যে সকালে উঠে বা টিভি দেখতে দেখতে এই ছোট ছোট মুভমেন্টগুলো করলে সারাদিন পায়ে অনেক হালকা অনুভূতি হয়।
গর্ভাবস্থায়-পা-ফুলে-গেলে-করণীয়
দিনে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন, তবে যতটা আরাম লাগে ততটাই। যদি সুযোগ থাকে তাহলে সুইমিং পুলে হাঁটা আরও ভালো, কারণ পানির চাপে ফোলা আরও দ্রুত কমে। তবে সবকিছু শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেবেন, যাতে কোনো ঝুঁকি না থাকে। এই সাধারণ ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে শুধু পা ফোলা কমে না, শরীরও অনেক সতেজ থাকে।

জুতা, মোজা আর কাপড়ের সঠিক চয়েস

পা ফুলে গেলে অনেক সময় আমরা বড় বড় ওষুধ বা ব্যায়ামের কথা ভাবি, কিন্তু আসলে ছোট ছোট দৈনন্দিন জিনিসগুলোই সবচেয়ে বেশি কাজ দেয়। জুতো আর মোজার চয়েস যদি ঠিক না হয় তাহলে পায়ে চাপ বেড়ে ফোলা আরও খারাপ হয়ে যায়। তাই শুরুতেই এমন জুতো বেছে নিন যেগুলো একদম ঢিলেঢালা, নরম এবং পায়ের আকার অনুযায়ী ফিট হয়। হিলযুক্ত বা টাইট জুতো একেবারে এড়িয়ে চলুন, কারণ সেগুলো রক্ত চলাচলকে বাধা দেয় এবং সারাদিন অস্বস্তি বাড়ায়। মোজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। খুব টাইট বা ইলাস্টিকযুক্ত মোজা পরবেন না যাতে পায়ের গোড়ালি বা আঙুলে দাগ পড়ে।

যদি ডাক্তার পরামর্শ দেন তাহলে মেডিকেল কম্প্রেশন স্টকিংস ব্যবহার করতে পারেন, যেগুলো হালকা চাপ দিয়ে পানি জমা কমাতে সাহায্য করে। সকালে উঠে এগুলো পরে নেওয়া ভালো, আর রাতে শোয়ার আগে খুলে রাখুন যাতে পা একেবারে ফ্রি থাকে। কাপড়ের বেলায়ও সবসময় ঢিলে-ঢালা জামা-কাপড় পরার চেষ্টা করুন। গর্ভাবস্থায় পা ফুলে গেলে করণীয় এর মধ্যে এই সাধারণ জিনিসগুলো মেনে চললে ফারাকটা সত্যিই চোখে পড়ে। এগুলো খুবই ছোট ছোট অভ্যাস, কিন্তু নিয়মিত করলে পা ফোলা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং আপনি সারাদিন অনেক আরাম বোধ করবেন।

আরও কিছু প্র্যাকটিক্যাল টিপস যা সত্যিই কাজ করে

পা গর্ভাবস্থায় ফুলে গেলে অনেক সময় বড় বড় উপায়ের পাশাপাশি ছোট ছোট প্র্যাকটিক্যাল টিপসগুলোই সবচেয়ে বেশি আরাম দেয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বা রাতে পায়ে হালকা ম্যাসাজ করুন, আঙুল থেকে উপরের দিকে ধীরে ধীরে চাপ দিয়ে। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে আর ফোলা কমতে সাহায্য করে। আরেকটা খুব কার্যকর জিনিস হলো ঠান্ডা সেঁক-একটা পরিষ্কার কাপড়ে বরফ মুড়ে ১০-১৫ মিনিট করে পায়ে লাগান। কিছু মা এপসম সল্ট মেশানো ঠান্ডা পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে অসাধারণ স্বস্তি পান বলে জানিয়েছেন। কাজের সময়ও বসার জায়গায় পায়ের নিচে ছোট স্টুল বা বালিশ রেখে পা একটু উঁচু করে রাখার ব্যবস্থা করুন, এতে সারাদিন অনেকটা হালকা লাগে।
এছাড়া গরমের দিনে যতটা সম্ভব বাইরে কম বেরোনোর চেষ্টা করুন, কারণ গরমে ফোলা আরও বেড়ে যায়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্ট্রেস কম রাখা। মানসিক চাপ বাড়লে শরীর আরও বেশি পানি ধরে রাখে। তাই হালকা মেডিটেশন, প্রিয় গান শোনা বা পরিবারের সাথে সময় কাটানো-এগুলোও অদ্ভুতভাবে কাজ করে। আমি দেখেছি যারা এই ছোট ছোট টিপসগুলো নিয়মিত মেনে চলেন, তাদের ফোলা অনেক দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মেজাজও ভালো থাকে। এগুলো কোনো বড় পরিবর্তন নয়, কিন্তু দিনের পর দিন করলে সত্যিই ফারাকটা টের পাবেন।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

গর্ভাবস্থা সত্যিই একটা অসাধারণ সময়, যেখানে ছোট ছোট অস্বস্তি নিয়েও অনেক আনন্দ পাওয়া যায়। আপনি যদি এই সাধারণ টিপসগুলো নিয়মিত মেনে চলেন, তাহলে পা ফোলার সমস্যাটা অনেকটা সামলে নিতে পারবেন আর দিনগুলো অনেক আরামদায়ক কাটবে। তবে কোনো কিছুতেই সন্দেহ হলে এক মুহূর্তও দেরি না করে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেবেন। সুস্থ থাকুন, নিজের যত্ন নিন, আর সুন্দর একটা মা হিসেবে এই যাত্রাটা উপভোগ করুন। লেখাটা যদি আপনার একটুও কাজে লাগে তাহলে শেয়ার করবেন, আর কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url