প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম
নতুনদের জন্যও পদ্ধতিটি খুব সহজ, তাই প্রথমবার চেষ্টা করলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কীভাবে বীজ বপন করবেন, কতটা পানি দেবেন এবং দ্রুত ফলন পেতে কী করবেন-সব জানা যাবে এক জায়গায়। চলুন জেনে নেই আর্টিকেলটি পড়ে।
পেজ সূচিপত্রঃ প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম
- প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম
- উপযুক্ত প্লাস্টিক বোতল বেছে নেওয়ার সহজ টিপস
- বোতল কেটে প্রস্তুত করা এবং ড্রেনেজ ছিদ্র বানানোর সহজ উপায়
- ধনে পাতার জন্য পারফেক্ট মাটির মিক্সচার তৈরি করবেন কীভাবে?
- ধনে বীজ ভিজিয়ে চারা বপনের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি
- বারান্দায় সূর্যের আলো আর জায়গা নির্বাচন
- পানি দেওয়ার নিয়ম যাতে গাছ সুস্থ থাকে সারা বছর
- প্রাকৃতিক সার দিয়ে ঘন ঝোপালো ধনে পাতা পাওয়ার কৌশল
- পোকামাকড় বা গাছ ফুলে যাওয়ার সমস্যা হলে কী করবেন?
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম
রান্নাঘরে ধনে পাতা লাগবে, কিন্তু বাজারে দাম দেখে মন খারাপ হয়ে যায়? আপনি একা
না-এই সমস্যা প্রায় সবার। তবে একটু ভাবলেই দেখবেন, সমাধানটা আসলে আপনার
বারান্দাতেই আছে। প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম যদি
জানেন বড় জমি লাগবে না, দামি টব লাগবে না-শুধু একটা পুরনো প্লাস্টিকের বোতল হলেই
চলবে। এটা শুনে হয়তো হাসছেন, কিন্তু একবার চেষ্টা করলে বুঝবেন-এই ছোট্ট বোতলটাই
আপনার রান্নাঘর বদলে দিতে পারে। শুরুটা করুন বোতল তৈরি থেকে। যেকোনো ১.৫ বা ২
লিটারের পেট বোতল নিন, ভালো করে ধুয়ে নিন।
বোতলের নিচে ৪ থেকে ৫টা ছোট ছিদ্র করুন-এটা অতিরিক্ত পানি বের করে দেবে, নইলে
শিকড় পচে যাবে। এরপর বাগানের মাটির সঙ্গে সামান্য জৈব সার মিশিয়ে বোতল ভরুন,
উপরে বীজ ছড়িয়ে দিন, আর হালকা করে একটু মাটি দিয়ে ঢেকে দিন। স্প্রে বোতলে পানি
দিন-সরাসরি ঢাললে বীজ সরে যায়, এটা মাথায় রাখবেন। বোতলটা এমন জায়গায় রাখুন
যেখানে দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা রোদ পড়ে। এখন শুধু একটু ধৈর্য
ধরুন।
বীজ বোনার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ছোট্ট সবুজ মাথা উঁকি দেবে-সেই দৃশ্যটা দেখলে
বুকটা এমনিতেই হালকা লাগে। তিন সপ্তাহ পর থেকে পাতা কাটতে পারবেন, তবে সবসময় উপর
থেকে কাটুন, গোড়া থেকে কাটলে গাছ মরে যায়। মাটি একটু শুকিয়ে এলেই পানি দিন,
রোজ না দিলেও চলে-বরং বেশি পানি দিলেই বিপদ। একটু যত্ন নিলেই দেখবেন, আপনার ছোট্ট
বারান্দা হয়ে উঠেছে টাটকা সবুজের এক টুকরো বাগান।
উপযুক্ত প্লাস্টিক বোতল বেছে নেওয়ার সহজ টিপস
ধনে পাতা চাষের জন্য বোতল কিনতে হবে না-রান্নাঘরে বা ফ্রিজে যে বোতলগুলো পড়ে
আছে, সেগুলোই কাজে লাগবে। তবে সব বোতল কিন্তু একরকম না। ১.৫ বা ২ লিটারের পেট
বোতল সবচেয়ে ভালো কাজ করে, কারণ এতে মাটি বেশি ধরে আর শিকড় ছড়ানোর জায়গা
পায়। ছোট বোতলে মাটি কম থাকে, তাই গাছ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে-এটা মাথায়
রাখবেন। বোতল বাছাইয়ের সময় একটা জিনিস ভালো করে দেখুন-বোতলের গায়ে ত্রিভুজ
চিহ্নের ভেতরে নম্বর লেখা থাকে। যদি "১" লেখা থাকে, সেটা পেট প্লাস্টিক-এটাই
সবচেয়ে নিরাপদ। "২" বা "৫" নম্বরের বোতলও ব্যবহার করতে পারেন।
তবে পুড়ে যাওয়া বা রঙ বদলে যাওয়া বোতল এড়িয়ে চলুন-সেগুলো থেকে ক্ষতিকর
উপাদান মাটিতে মিশতে পারে। বোতলের রঙের দিকেও একটু নজর দিন। সাদা বা হালকা রঙের
স্বচ্ছ বোতলে রোদে তাপ বেশি জমে, ফলে মাটি শুকিয়ে যায় তাড়াতাড়ি। গাঢ় রঙের
বা কালো বোতল তাপ কম শোষণ করে, তাই গরমের দিনে এগুলো বেশি উপকারী। আর যদি
স্বচ্ছ বোতলই ব্যবহার করতে চান, তাহলে বাইরে একটু কাগজ বা কাপড় মুড়িয়ে
দিন-কাজ হবে ঠিকঠাক।
বোতল কেটে প্রস্তুত করা এবং ড্রেনেজ ছিদ্র বানানোর সহজ উপায়
প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম মেনে চলতে হলে সবার আগে
বোতলটা ঠিকমতো তৈরি করতে হবে। অনেকেই মনে করেন এটা কঠিন কাজ, কিন্তু আসলে একদমই
না। একটা ধারালো ছুরি বা কাঁচি, আর একটা গরম সুই বা পেরেক-এটুকুই যথেষ্ট। পাঁচ
মিনিটের কাজ, কিন্তু এই ছোট্ট প্রস্তুতিটাই গাছের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয়। বোতল
কাটার আগে সিদ্ধান্ত নিন-আপনি কীভাবে ব্যবহার করতে চান। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো
বোতলের উপরের অংশ কেটে সরাসরি একটা পাত্র বানিয়ে নেওয়া। ক্যাপের দিক থেকে
মাপুন এবং বোতলের এক-তৃতীয়াংশ উপর থেকে কেটে ফেলুন।
আরো পড়ুনঃ সূর্যমুখী তেলের উপকারিতা ও যত পুষ্টি গুণ
কাটার সময় বোতলটা শক্ত করে ধরুন এবং ধীরে ধীরে কাটুন-তাড়াহুড়ো করলে কাটা
আঁকাবাঁকা হয়ে যাবে। কাটা অংশের ধারগুলো যদি খুব তীক্ষ্ণ মনে হয়, একটু
স্যান্ডপেপার দিয়ে ঘষে নিন। এবার সবচেয়ে জরুরি কাজটা করুন-ড্রেনেজ ছিদ্র
বানানো। বোতলের একদম নিচে ৪ থেকে ৫টা ছিদ্র করুন, প্রতিটা ছিদ্র যেন মটরশুঁটির
দানার মতো আকারের হয়। একটা পেরেক আগুনে গরম করে নিন, তারপর ধীরে চাপ দিলেই
সুন্দর গোল ছিদ্র হবে। এই ছিদ্রগুলো না থাকলে বাড়তি পানি জমে শিকড় পচে
যাবে-তখন আর যতই যত্ন করুন, গাছ বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ছিদ্র করা হয়ে গেলে একটা ছোট্ট কাজ করুন-বোতলের নিচে সামান্য খোয়া বা ছোট
পাথরের টুকরো বিছিয়ে দিন। এটা ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং
পানি নিষ্কাশন আরও ভালো হয়। এরপর বোতলটা একটা ছোট ট্রে বা পুরনো থালার উপর
রাখুন-পানি পড়লে বারান্দা নোংরা হবে না। এতটুকু প্রস্তুতি নিলেই আপনার বোতল
পুরোপুরি তৈরি, এখন শুধু মাটি আর বীজের পালা।
ধনে পাতার জন্য পারফেক্ট মাটির মিক্সচার তৈরি করবেন কীভাবে?
গাছ লাগানোর আগে অনেকেই একটা ভুল করেন-যেকোনো মাটি তুলে এনে বোতলে ভরে দেন।
কিন্তু মাটি ঠিক না হলে বীজ গজালেও গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা হলুদ হয়ে যায়,
আর কিছুদিনের মধ্যেই মরে যায়। ধনে পাতার জন্য দরকার হালকা, ঝরঝরে মাটি-যেটা পানি
ধরে রাখবে কিন্তু জলাবদ্ধতা তৈরি করবে না। এই ছোট্ট বিষয়টা মাথায় রাখলেই আপনার
চাষ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। সবচেয়ে ভালো মিক্সচার হলো তিনটা উপাদানের সমন্বয়।
বাগানের সাধারণ মাটি, কোকোপিট আর জৈব সার-এই তিনটা সমান অনুপাতে মিলিয়ে নিন।
কোকোপিট মাটিকে হালকা রাখে এবং শিকড়ে বাতাস চলাচল করতে দেয়। জৈব সার গাছকে
পুষ্টি জোগায়-রাসায়নিক সার দিতে হবে না, ভার্মিকম্পোস্ট বা পচা গোবর সার দিলেই
চলবে। এই মিক্সচার নার্সারিতে কিনতে পারেন, অথবা ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন।
কোকোপিট যদি না পান, সেটা নিয়ে চিন্তা করবেন না। বালি দিয়েও কাজ চলে-মাটির
সঙ্গে এক ভাগ বালি মিশিয়ে দিন, মাটি ঝরঝরে হয়ে যাবে। তবে সমুদ্রের বালি ব্যবহার
করবেন না, কারণ এতে লবণ থাকে যা গাছের শিকড়ের ক্ষতি করে। নদীর বালি বা নার্সারির
বালি সবচেয়ে ভালো।
মিক্সচার তৈরির পর হাতে একটু নিয়ে চাপ দিন-যদি দলা না পাকিয়ে আলগা থাকে, বুঝবেন
মিক্সচার ঠিকঠাক হয়েছে। মাটি বোতলে ভরার আগে একটা কাজ করুন-মিক্সচারটা একটু ভেজা
করে নিন। একদম শুকনো মাটিতে বীজ বুনলে অঙ্কুরোদগম দেরিতে হয়। আবার বেশি ভেজা হলে
বীজ পচে যায়। হাতে নিয়ে চাপ দিলে যদি পানি না পড়ে কিন্তু মাটি একটু আর্দ্র মনে
হয়-এটাই পারফেক্ট অবস্থা। এই মিক্সচার দিয়ে বোতল ভরুন, উপর থেকে আধা ইঞ্চি
জায়গা খালি রাখুন-বীজ দেওয়ার পর মাটি ঢাকার জন্য এই জায়গাটা দরকার হবে।
ধনে বীজ ভিজিয়ে চারা বপনের সঠিক ও সহজ পদ্ধতি
ধনে বীজ বপনের আগে একটা কাজ করুন যেটা অনেকেই এড়িয়ে যান-বীজ ভিজিয়ে রাখুন।
শুকনো বীজ সরাসরি মাটিতে দিলে অঙ্কুরোদগম হতে অনেক বেশি সময় লাগে, কখনো কখনো বীজ
নষ্টও হয়ে যায়। একটা ছোট বাটিতে সাধারণ তাপমাত্রার পানি নিন এবং বীজগুলো ৮ থেকে
১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। রাতে ভিজিয়ে রাখলে সকালে বপনের জন্য একদম তৈরি পাবেন।
প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম অনুসরণ করলে বীজ বপনের
আগে আরেকটা ছোট্ট কিন্তু জরুরি কাজ করতে হবে। ধনে বীজ আসলে দুটো বীজ একসঙ্গে
জোড়া লাগানো থাকে-এটা অনেকেই জানেন না।
বপনের আগে বীজগুলো হাতের তালুতে রেখে আলতো করে ঘষুন, যাতে দুটো আলাদা হয়ে যায়।
এতে প্রতিটা বীজ আলাদাভাবে অঙ্কুরিত হবে এবং চারার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে
যাবে। এবার বপনের পালা। ভেজানো বীজগুলো মাটির উপর সমানভাবে ছড়িয়ে
দিন-একজায়গায় গাদা করবেন না, নইলে চারাগুলো একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে বাড়বে।
বীজ ছড়ানো হয়ে গেলে উপর থেকে মাত্র এক সেন্টিমিটার মাটি দিয়ে ঢেকে দিন, বেশি
গভীরে দিলে বীজ আলো পাবে না, অঙ্কুরোদগম হবে না।
স্প্রে বোতলে হালকা পানি দিন-পানির চাপে বীজ যেন সরে না যায়, সেটা খেয়াল
রাখবেন। বপনের পর বোতলটা সঠিক জায়গায় রাখাটাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ না। প্রথম
কয়েকদিন বোতলটা এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সরাসরি কড়া রোদ পড়ে না, কিন্তু আলো
আসে। অঙ্কুর বের হওয়ার পর আস্তে আস্তে রোদের দিকে সরান। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে
ছোট্ট সবুজ পাতা উঁকি দেবে-সেই মুহূর্তটা দেখলে বুঝবেন, আপনার পরিশ্রম সফল
হয়েছে।
বারান্দায় সূর্যের আলো আর জায়গা নির্বাচন
ধনে পাতা চাষে মাটি আর বীজের পরেই যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা
হলো সঠিক জায়গা বেছে নেওয়া। অনেকে বোতল লাগিয়ে এক কোণে রেখে দেন, তারপর ভাবেন
গাছ কেন বাড়ছে না। আসলে ধনে পাতার জন্য দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সরাসরি
সূর্যের আলো দরকার-এটা না পেলে গাছ লম্বা হবে কিন্তু পাতা হবে কম, আর স্বাদও
থাকবে না। তাই বোতল রাখার আগে একটু সময় নিয়ে বারান্দার কোন দিকে বেশি রোদ পড়ে
সেটা দেখে নিন। বারান্দার দিক অনুযায়ী জায়গা বাছাই করুন। পূর্বমুখী বারান্দায়
সকালের নরম রোদ পড়ে-এটা ধনে পাতার জন্য আদর্শ। পশ্চিমমুখী বারান্দায় বিকেলের
রোদ পাওয়া যায়, সেটাও ভালো কাজ করে।
তবে দক্ষিণমুখী বারান্দা সবচেয়ে বেশি রোদ পায়, তাই গরমের দিনে একটু সাবধান
থাকতে হবে-কড়া রোদে পাতা ঝলসে যেতে পারে। উত্তরমুখী বারান্দায় রোদ কম পড়ে,
সেখানে চাষ করলে ফলন একটু কম হবে। প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের
সহজ নিয়ম হলো বোতলটা এমন জায়গায় রাখা যেখানে রোদ আসে কিন্তু ঝড়ের সময় সরাসরি
ধাক্কা লাগে না। বারান্দার রেলিংয়ের কাছে রাখলে রোদ ভালো পাবেন, কিন্তু বৃষ্টির
সময় বোতল উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। চাইলে রেলিংয়ে দড়ি বা তার দিয়ে ঝুলিয়ে
রাখতে পারেন-জায়গাও বাঁচবে, রোদও পাবে।
একটু বুদ্ধি করে রাখলেই ছোট্ট বারান্দাতেও অনেকগুলো বোতল একসঙ্গে রাখা সম্ভব।
গরমকাল আর শীতকালে কিন্তু জায়গা বদলাতে হতে পারে। শীতের দিনে রোদ কম থাকে, তাই
বোতলটা যেখানে সবচেয়ে বেশি আলো পড়ে সেখানে রাখুন। গরমে উল্টোটা করুন-দুপুরের পর
বোতলটা একটু ছায়ায় সরিয়ে দিন, নইলে অতিরিক্ত তাপে মাটি শুকিয়ে যাবে এবং গাছ
নেতিয়ে পড়বে। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে গাছের যত্নের ধরনটাও একটু বদলান-তাহলে সারা
বছরই টাটকা ধনে পাতা পাবেন।
পানি দেওয়ার নিয়ম যাতে গাছ সুস্থ থাকে সারা বছর
ধনে পাতা চাষে সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা হয় সেটা হলো পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে। অনেকে
ভাবেন রোজ পানি দিলে গাছ ভালো থাকবে-কিন্তু আসলে উল্টো। বেশি পানিতে শিকড় পচে
যায়, পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে, আর গাছ ধীরে ধীরে মরে যায়। সঠিক নিয়ম হলো মাটির
উপরের স্তর একটু শুকিয়ে এলে তবেই পানি দিন-আঙুল দিয়ে মাটি খুঁচিয়ে দেখুন, এক
ইঞ্চি গভীরে যদি শুকনো মনে হয় তাহলে পানি দেওয়ার সময় হয়েছে। স্প্রে বোতল বা
ঝরনার মতো হালকা ধারায় পানি দিন, সরাসরি জোরে ঢাললে মাটি সরে যায় আর শিকড়
উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
গরম আর শীতে পানি দেওয়ার ধরন একটু আলাদা হবে-এটা মাথায় রাখবেন। গরমের দিনে মাটি
দ্রুত শুকিয়ে যায়, তাই দুই দিনে একবার পানি দিতে হতে পারে। শীতে মাটি অনেকক্ষণ
ভেজা থাকে, তখন তিন থেকে চার দিনে একবারই যথেষ্ট। সকালবেলা পানি দেওয়ার অভ্যাস
করুন-এতে সারাদিন গাছ পানি শুষে নিতে পারে এবং রাতের আগেই মাটি একটু শুকিয়ে
যায়, ফলে ছত্রাক বা পচনের ভয় থাকে না। একটু নিয়ম মেনে চললেই দেখবেন আপনার গাছ
সারা বছর সতেজ আর সুস্থ থাকবে।
প্রাকৃতিক সার দিয়ে ঘন ঝোপালো ধনে পাতা পাওয়ার কৌশল
ধনে পাতা ঘন আর ঝোপালো করতে চাইলে রাসায়নিক সারের দিকে হাত বাড়াতে হবে না-আপনার
রান্নাঘরেই সেরা সারের উপাদান আছে। চায়ের ব্যবহার করা পাতা, কলার খোসা, আর ডিমের
খোসা-এই তিনটা জিনিস একসঙ্গে শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিন। কলার খোসা
পটাশিয়াম দেয় যা পাতা ঘন করে, ডিমের খোসা ক্যালসিয়াম জোগায় যা শিকড় মজবুত
করে, আর চায়ের পাতা মাটি নরম রাখে। মাসে দুইবার এই মিশ্রণ দিলেই দেখবেন গাছ কতটা
তরতাজা হয়ে ওঠে।
তরল সার হিসেবে চালের ধোয়া পানি দারুণ কাজ করে-এটা অনেকেই জানেন না। চাল ধোয়ার
পর যে সাদাটে পানি থাকে সেটা ফেলে না দিয়ে সরাসরি গাছে দিন, এতে প্রচুর পরিমাণ
নাইট্রোজেন আর খনিজ উপাদান থাকে যা পাতার রঙ গাঢ় সবুজ করে। এছাড়া সপ্তাহে একবার
এক লিটার পানিতে এক চামচ নিম খোলের গুঁড়ো মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিন-এটা একই
সঙ্গে সার আর পোকা তাড়ানোর কাজ করে। প্রাকৃতিক এই উপায়গুলো নিয়মিত মানলে আপনার
ধনে পাতা এতটাই ঘন হবে যে বাজার থেকে কেনার কথা মনেই থাকবে না।
পোকামাকড় বা গাছ ফুলে যাওয়ার সমস্যা হলে কী করবেন?
ধনে পাতা চাষ করতে গিয়ে দুটো সমস্যায় প্রায় সবাই একবার না একবার
পড়েন-পোকামাকড়ের আক্রমণ আর গাছে ফুল চলে আসা। পোকার সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে
সঙ্গে রাসায়নিক কীটনাশক দেওয়ার দরকার নেই। এক লিটার পানিতে দুই চামচ নিম তেল আর
কয়েক ফোঁটা তরল সাবান মিশিয়ে স্প্রে করুন-সকালে বা বিকেলে, কড়া রোদে নয়। তিন
থেকে চার দিন টানা করলেই পোকা কমে যাবে, আর গাছও সুস্থ থাকবে।
প্লাস্টিকের বোতলে বারান্দায় ধনে পাতা চাষের সহজ নিয়ম মেনে চললেও গরমের দিনে
গাছে ফুল চলে আসতে পারে-এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ফুল এলে পাতার স্বাদ কমে যায়
এবং গাছ দ্রুত বীজ তৈরিতে মনোযোগ দেয়। ফুলের কুঁড়ি দেখামাত্র কেটে ফেলুন-এতে
গাছ আবার পাতা উৎপাদনে ফিরে আসে। আর গরমে বোতলটা দুপুরের পর ছায়ায় সরিয়ে
রাখুন, কারণ অতিরিক্ত তাপই ফুল আসার সবচেয়è বড় কারণ-এটা একবার মাথায় গেঁথে
নিলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
একটা পুরনো বোতল আর মুঠো মাটি দিয়ে যে এত সুন্দর কিছু হতে পারে, সেটা না করলে
বিশ্বাস করা কঠিন। আপনি যদি আজই শুরু করেন, তাহলে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে নিজের
হাতে লাগানো টাটকা ধনে পাতা রান্নায় দিতে পারবেন-সেই তৃপ্তিটা আলাদা। ভুল হবে,
গাছ মরবে, আবার লাগাবেন-এভাবেই শেখা হয়। তাই দেরি না করে আজই একটা বোতল তুলে
নিন, আর শুরু করুন আপনার ছোট্ট সবুজ যাত্রা। এমন আরো তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে
আমাদের পেজকে সাবস্ক্রাইব করে রাখতে ভূলবেন না। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। 260416


