বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম

বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম জানলে পুরো লুকটাই বদলে যেতে পারে। অনেক সময় সুন্দর শাড়ি পরেও ভুল গহনার কারণে সাজের মান কমে যায়। কোন শাড়ির সঙ্গে কেমন নেকলেস, কানের দুল বা চুড়ি মানাবে, সেই সহজ টিপসগুলো জেনে নিন।
বিয়ে-বাড়িতে-শাড়ির-সাথে-মানানসই-গহনা-পরার-নিয়ম
আজকের এই পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব ঠিক কীভাবে বিয়ের বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম মেনে চললে আপনার সাজটা একদম পারফেক্ট হবে। চলুন, বিস্তারিত আলোচনা করি।

পেজ সূচিপত্রঃ বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম

বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম

বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম ঠিকঠাক ম্যাচ না করলে তো আর দেখতে ভালো লাগে না। আমি অনেক বিয়েতে দেখেছি, যেখানে মেয়েরা সুন্দর শাড়ি পরে এসেছে কিন্তু গয়না একদম এলোমেলো, তাতে পুরো লুকটা নষ্ট হয়ে যায়। চলুন, সহজ করে বলি কীভাবে শাড়ির সাথে গহনা পারফেক্টলি ম্যাচ করবেন। প্রথম কথা, শাড়ির রঙটা দেখে নিন। লাল বেনারসি শাড়ি হলে সোনার ভারী গয়নাই সবচেয়ে ভালো। গলায় একটা বড় নেকলেস, কানে ঝুমকো বা কানবালা, হাতে কয়েক ডজন চুড়ি আর বালা। মাথায় একটা সুন্দর টিকা দিলে তো লাগবে একদম রাজরানির মতো।
বিয়ে-বাড়িতে-শাড়ির-সাথে-মানানসই-গহনা-পরার-নিয়ম
আর যদি শাড়িটা গোল্ডেন বা ক্রিম কালারের হয়, তাহলে কুন্দন বা পোলকি সেট নিয়ে নিন। হালকা ঝিলমিলে লাগবে, কিন্তু একদম ভারী করে ফেলবেন না। নীল, সবুজ বা পেস্টেল শাড়িতে সোনার সাথে একটু সাদা পাথর বা পার্লের মিক্স করতে পারেন। তবে বাঙালির বিয়েতে আসল সোনাই সবচেয়ে বেশি চলে, সেটা মনে রাখুন। শাড়ির ধরন অনুযায়ীও আলাদা আলাদা হতে হবে। ভারি সিল্ক বা বেনারসি হলে গয়নাও হবে একটু ভারি, যাতে সব মিলে রয়্যাল লুক আসে।

কিন্তু জামদানি বা টাঙ্গাইল শাড়ি হলে হালকা গয়না পরুন, যাতে শাড়ির কাজগুলো ঢাকা না পড়ে। আরেকটা জিনিস ভুলে যাবেন না, আপনার স্কিন টোনের সাথে মিলিয়ে নিন। ফর্সা হলে যেকোনো গয়না মানাবে, কিন্তু গায়ের রং একটু গাঢ় হলে সোনালি বা উষ্ণ টোনের গয়নাই বেশি ভালো লাগে। শাখা-পলা তো বাঙালি বিয়ের মাস্ট আইটেম, সেটা ছাড়া তো ছবিই অসম্পূর্ণ।

শাড়ির রঙ দেখে গহনা বেছে নেওয়ার সহজ ট্রিক

শাড়ির রঙ দেখে গহনা বেছে নেওয়ার সহজ ট্রিক আসলে খুবই সোজা, কিন্তু একটু চোখ খোলা রাখলে আর নিজের স্টাইলটা বুঝলে পুরো লুকটা একদম পারফেক্ট হয়ে যায়। যদি আপনার শাড়ির রঙ গাঢ় হয় লাল, মেরুন, বেগুনি, গাঢ় গোলাপি বা গাঢ় সবুজ তাহলে সোনালি পোলকি, ট্র্যাডিশনাল গোল্ড বা লাল সোনালি কম্বিনেশনের গহনা বেছে নিন, এতে একটা উষ্ণ আর রাজকীয় উৎসবীয় ভাব আসে যা বিয়ের আবহে একদম মানিয়ে যায়।
বিয়ে-বাড়িতে-শাড়ির-সাথে-মানানসই-গহনা-পরার-নিয়ম
আর হালকা পেস্টেল শেডের শাড়ি যেমন ক্রিম, বেজ, পিঙ্ক বা আকাশি রঙের হলে রুপোলি, লাইট গোল্ড প্লেটেড, সাদা স্টোন বা রোজ গোল্ড টোনের গহনা নিলে লুকটা অনেক বেশি নরম, এলিগ্যান্ট আর ফ্রেশ দেখায়। আমি তো নিজে দেখেছি, শাড়ির পাড় বা ব্লাউজের থ্রেডের কাজের রঙ ধরে একটা অ্যাকসেন্ট কালার বেছে নিলে জিনিসটা একদম ম্যাজিকের মতো মিলে যায় যেমন সবুজ জামদানি শাড়িতে লাল ও সোনালি টাচ দিলে যেন পুরনো ছবি থেকে উঠে আসা লাগে। 

মূল ট্রিকটা হলো গহনা যেন শাড়িকে চাপিয়ে না যায়, বরং তার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে, তাই শাড়ির ওজন আর আপনার ফেস শেপের সাথে মিলিয়ে নিন। আয়নার সামনে শাড়ি পরে একবার ট্রাই করে দেখে নিলে কোনো ভুল হয় না, আর এভাবে বেছে নিলে বিয়ের বাড়িতে আপনি নিজেই সবার নজর কেড়ে নেবেন।

বেনারসি বা জামদানি শাড়ির সাথে কোন গহনা মানাবে সবচেয়ে ভালো

বেনারসি বা জামদানি শাড়ির সাথে কোন গহনা মানাবে সবচেয়ে ভালো এটা বুঝতে গেলে শাড়ির ওজন, জরি কাজ আর সূক্ষ্মতার দিকে নজর দিতে হয়, না হলে পুরো লুকটা একটু অসম্পূর্ণ লাগতে পারে। বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম মেনে চললে বেনারসি শাড়িতে ভারী গোল্ড জুয়েলারি সবচেয়ে বেশি মানিয়ে যায় বড় পোলকি নেকলেস, ঝুমকো দুল, মোটা বালা আর হাতে চুড়ির গুচ্ছ পরলে যেন সত্যিই রাজরানীর মতো লাগে, কারণ এই শাড়ির জরি আর সোনালি থ্রেডের সাথে হেভি সেট চমৎকার ব্যালেন্স তৈরি করে। 
অন্যদিকে জামদানি শাড়ি তুলনায় হালকা কিন্তু খুব ঐতিহ্যবাহী, তাই এর সাথে ট্র্যাডিশনাল কুমোরটুলি বা ফিলিগ্রি কাজের মাঝারি ওজনের সোনালি গহনা, সুন্দর চুড়ি আর ছোট-মাঝারি নেকলেস পরলে দারুণ এলিগ্যান্ট আর ক্লাসিক লুক ফুটে ওঠে। আমি নিজে দেখেছি যারা এই দুই ধরনের শাড়ির সাথে সঠিক গহনা মিলিয়ে পরেন, তাদের স্টাইল সবার মনে থেকে যায়, তাই প্লাস্টিক বা ফ্যাশন জিনিস একদম এড়িয়ে চলুন আর আয়নার সামনে পুরো সেটটা পরে দেখে নিন যাতে আপনাকে সবচেয়ে সুন্দর লাগে।

নেকলেস বেছে নেওয়ার সময় যা যা খেয়াল রাখবেন

নেকলেস বেছে নেওয়ার সময় যা যা খেয়াল রাখবেন আসলে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ একটা ভুল নেকলেস পুরো শাড়ির লুকটাকে নষ্ট করে দিতে পারে আর সঠিকটা পরলে আপনি যেন সত্যিকারের রাজরানী হয়ে উঠবেন। প্রথমেই আপনার ব্লাউজের নেকলাইন দেখে নিন যদি ডিপ নেক হয় তাহলে লং নেকলেস বা মালা টাইপের কিছু নিন যাতে গলাটা আরও লম্বা আর এলিগ্যান্ট দেখায়, আর হাই নেক বা কলার টাইপ হলে ছোট চোকার বা কলার নেকলেস পারফেক্ট মানাবে।
বিয়ে-বাড়িতে-শাড়ির-সাথে-মানানসই-গহনা-পরার-নিয়ম
শাড়ির ওজনের সাথেও মিলিয়ে নিন, ভারী বেনারসি বা কাতান শাড়িতে মোটা পোলকি বা হেভি গোল্ড নেকলেস চলে কিন্তু হালকা নেট বা সিল্ক শাড়িতে লাইট ওয়েট বা ডেলিকেট ডিজাইনের জিনিস নিলে ব্যালেন্স থাকে। আপনার ফেস শেপটাও খুব ইম্পর্ট্যান্ট গোল মুখ হলে লম্বা ড্রপ নেকলেস নিন যাতে মুখটা স্লিম দেখায়, আর লম্বা মুখ হলে চোকার বা শর্ট নেকলেস বেছে নিন। 

আমি তো সবসময় বলি, শাড়ি পরে আয়নার সামনে একবার পুরো সেটটা ট্রাই করে দেখে নিন, কারণ বিয়ের বাড়িতে গিয়ে আর খুলে ফেলা যায় না। আর সবশেষে আরামের কথা ভুলবেন না গহনাটা যেন গলায় চেপে না ধরে বা মেকআপের সাথে ক্ল্যাশ না করে, তাহলে সারা সন্ধ্যা স্বাচ্ছন্দ্যে কাটবে। এভাবে খেয়াল রাখলে নেকলেসটা শাড়ির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলবে আর আপনার লুকটা সবাই মনে রাখবে।

কানের দুল বা ইয়াররিংস শাড়ির লুককে কীভাবে সুন্দর করে

কানের দুল বা ইয়াররিংস শাড়ির লুককে কীভাবে পারফেক্ট করে সেটা আসলে অনেক বড় ব্যাপার, কারণ এই ছোট্ট জিনিসটাই পুরো সাজটাকে জীবন্ত করে তোলে। চুল খোলা থাকলে লম্বা ঝুমকো দুল বা জুমকা সবচেয়ে ভালো মানায়, আর চুল আপ করে রাখলে ছোট স্টাড বা হুপ ইয়াররিংস পরলে অনেক এলিগ্যান্ট লাগে। 

বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম মেনে চললে কানের দুল শাড়ির পাড়ের ডিজাইন আর ব্লাউজের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উচিত, বেনারসি বা জামদানির মতো ভারী শাড়িতে ঝুমকো দুল চমৎকার লাগে আর হালকা নেট বা সিল্ক শাড়িতে ডেলিকেট স্টাড বা ছোট হুপ পরলে লুকটা ফ্রেশ ও আধুনিক হয়। 

আমি তো সবসময় বলি, ইয়াররিংস ছাড়া শাড়ির লুক কখনো পুরোপুরি হয় না, কারণ এটা মুখকে অনেক বেশি উজ্জ্বল ও আকর্ষক করে। আরামের দিকেও খেয়াল রাখবেন, যে দুল কানে টেনে ধরে বা ভারী লাগে সেটা এড়িয়ে চলুন যাতে সারা অনুষ্ঠান স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করতে পারেন।

হাতের চুড়ি, বালা আর অন্যান্য গহনার গুরুত্ব বিয়ের অনুষ্ঠানে

হাতের চুড়ি, বালা আর অন্যান্য গহনার গুরুত্ব বিয়ের অনুষ্ঠানে আসলে অপরিসীম, কারণ এগুলো শুধু সাজের অংশ নয়, বরং পুরো পরিবেশটাকে জীবন্ত করে তোলে। চুড়ির সেই ঝুমঝুম শব্দ শুনলেই তো বিয়ে বাড়ির আনন্দময় মেজাজটা মনে পড়ে যায়, লাল ও সোনালি চুড়ি, কাচের চুড়ির সাথে গোল্ড বালা মিক্স করে পরলে যেন হাত দুটোই আলাদা করে বলে দেয় যে এটা উৎসবের দিন। আর হাতে যদি মেহেদির নকশা থাকে, তাহলে হালকা ওজনের চুড়ি বা স্লিম বালা বেছে নিন যাতে সেই সুন্দর ডিজাইনটা ঢেকে না যায়, বরং আরও ফুটে ওঠে। 
অন্যান্য গহনার মধ্যে আংটি, মাদুলি বা কোমরের চেনও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, এগুলো মিলিয়ে পরলে একটা পুরোপুরি ট্র্যাডিশনাল আর কমপ্লিট লুক তৈরি হয় যা শাড়ির সাথে দারুণ মানিয়ে যায়। আমি তো দেখেছি, যাঁরা হাতে অনেকগুলো চুড়ি পরে আসেন তাঁরা সবচেয়ে বেশি ছবি তুলতে পছন্দ করেন, কারণ হাতের এই গহনাগুলোই সেই মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখে। সবশেষে মনে রাখবেন, আরামের সাথে মিলিয়ে পরুন যাতে সারা সন্ধ্যা হাত নাড়িয়ে নাচতে গিয়ে বিরক্ত না লাগে, তাহলেই আপনার লুকটা সত্যিই অসাধারণ হয়ে উঠবে।

সিল্ক বা কাতান শাড়িতে ট্র্যাডিশনাল vs মডার্ন গহনা

সিল্ক বা কাতান শাড়িতে ট্র্যাডিশনাল vs মডার্ন গহনা নিয়ে এখন অনেকেই দ্বন্দ্বে পড়েন কারণ দুটো স্টাইলই আলাদা আকর্ষণ নিয়ে আসে। এই শাড়িগুলো নিজেই বেশ ভারী আর রয়্যাল, তাই গহনা বাছাই করার সময় সতর্ক থাকতে হয়। বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম মেনে চললে আপনি দেখবেন ট্র্যাডিশনাল গহনা যেমন ভারী গোল্ড সেট, পোলকি নেকলেস, ঝুমকো দুল আর মোটা বালা ক্লাসিক লুক দেয় যা ফর্মাল অনুষ্ঠানে চমৎকার মানায়, আর মডার্ন গহনা স্টোন, পার্ল বা সিলভার ফিউশনের সাথে কাতানে বেশি স্টাইলিশ লাগে কারণ শাড়িটা ভারী হওয়ায় ব্যালেন্স হয়। 

সিল্ক শাড়িতে অবশ্য দুটোই চলে, তবে রিসেপশন বা সন্ধ্যার পার্টিতে মডার্ন আর মূল বিয়ের অনুষ্ঠানে ট্র্যাডিশনাল বেশি ভালো লাগে। আমার অভিজ্ঞতায় বলছি, শেষ পর্যন্ত যেটাতে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন আর নিজেকে সুন্দর লাগবে, সেটাই বেছে নিন, তাহলেই লুকটা সত্যিই অসাধারণ হয়ে উঠবে।

হালকা বা নেট শাড়ির সাথে ভারী গহনা পরার আইডিয়া

হালকা বা নেট শাড়ির সাথে ভারী গহনা পরার আইডিয়া অনেকের কাছে প্রথমে একটু অদ্ভুত বা সাহসী মনে হলেও আসলে এটা খুব স্মার্ট এবং স্টাইলিশ একটা কম্বিনেশন যা লুকটাকে একদম আলাদা করে তোলে। নেট বা হালকা ফ্যাব্রিকের শাড়ি নিজে থেকে সূক্ষ্ম, ফ্লোয়িং আর লাইট ওয়েট হয় বলে সাথে ভারী গহনা যোগ করলে একটা চমৎকার কনট্রাস্ট আর ব্যালেন্স তৈরি হয়। যা পুরো সাজটাকে অনেক বেশি আকর্ষক ও মডার্ন করে। 

বিয়ে বাড়িতে শাড়ির সাথে মানানসই গহনা পরার নিয়ম মেনে চললে হালকা পিঙ্ক বা বেজ রঙের নেট শাড়ির সাথে বড় সোনালি নেকলেস, মোটা গোল্ড বালা আর ঝুমকো দুল পরে দেখুন, দেখতে যেন কোনো ফ্যাশন উইকের পাতা থেকে উঠে এসেছে। তবে খেয়াল রাখবেন গহনা যেন শাড়ির সূক্ষ্ম কাপড়ে আটকে না যায় এবং হাতের চুড়ির সংখ্যা একটু কম রাখুন যাতে হাতটা হালকা ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ থাকে। আমি নিজে একবার একজনকে এভাবে সাজগোজ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখেছিলাম, সবাই প্রশংসা করেছিল এই অনন্য কম্বিনেশনের জন্য।

বিয়ে বাড়িতে গহনা পরতে গিয়ে যেসব ভুল একদম করবেন না

বিয়ে বাড়িতে গহনা পরতে গিয়ে যেসব ভুল একদম করবেন না সেগুলো জেনে রাখলে আপনার সাজটা শেষ মুহূর্তে নষ্ট হবে না। সবচেয়ে বড় ভুলটা হয় শাড়ির সাথে একদম মিলিয়ে না দেখে গহনা কেনা বা পরা রঙ, পাড়ের ডিজাইন বা শাড়ির ওজনের সাথে না মিললে গহনা হয় শাড়িকে চাপিয়ে দেয় নয়তো পুরো লুকটাকে ফ্যাকাশে করে দেয়। তারপর অনেকে অতিরিক্ত গহনা পরে ফেলেন, মানে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সব জায়গায় ভারী ভারী জিনিস চাপিয়ে দেন, যাতে লুকটা ভারী আর অস্বস্তিকর হয়ে যায়।
তৃতীয় ভুল হলো আরামের কথা একেবারে ভুলে যাওয়া যে নেকলেস গলায় চেপে ধরে, দুল কানে টেনে ধরে বা চুড়ি হাতে লাগে সেটা পরে সারা সন্ধ্যা কষ্ট করবেন না। চতুর্থ ভুলটা অনেকেই করেন, সেটা হলো মেকআপের সাথে গহনার কালার বা স্টাইল না মিলিয়ে নেওয়া। 

আর সবচেয়ে বড় ভুল যেটা সবাই করে থাকেন তা হলো অন্যের লুক দেখে হুবহু কপি করা, কারণ প্রত্যেকের বডি শেপ, স্কিন টোন আর নিজস্ব স্টাইল আলাদা। তাই নিজেকে ভালো করে চিনে, আয়নার সামনে পুরো সেটটা পরে দেখে, আরাম আর মানানসইয়ের দিকে খেয়াল রেখে গহনা বেছে নিলে তবেই আপনার লুকটা সত্যিই অসাধারণ হয়ে উঠবে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

দেখুন, বিয়ের বাড়িতে শাড়ির সাথে গহনা পরাটা আসলে শুধু সাজগোজের ব্যাপার নয়, এটা আপনার আত্মবিশ্বাস আর নিজেকে সুন্দর করে তোলার একটা সুন্দর উপায়। সঠিক গহনা বেছে নিতে পারলে আপনি যেমন নিজেকে ভালো লাগবে, তেমনি অন্যরাও আপনার লুকের প্রশংসা করবে। ট্রেন্ড যতই আসুক, নিজের স্টাইল, আরাম আর শাড়ির সাথে মানানসইয়ের কথা কখনো ভুলবেন না।

এই ছোট ছোট টিপসগুলো মেনে চললে আপনার পুরো সাজটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিয়ের এই উৎসবমুখর সময়ে সবাইকে অনেক অনেক শুভকামনা। যদি কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। সুন্দর করে সেজে বিয়ের আনন্দ উপভোগ করুন! ধন্যবাদ। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url