বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি-এই প্রশ্নের উত্তর জানলে অনেক বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। সুস্থ দাম্পত্য জীবন শুধু ভালোবাসায় নয়, ভালো স্বাস্থ্যের ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে। অনেকেই এই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, পরে ছোট একটি ভুলই বড় সমস্যার কারণ হয়ে যায়।
বিয়ের-আগে-স্বাস্থ্য-পরীক্ষা-কেন-জরুরি
কোন কোন পরীক্ষা করা উচিত, কী কী রোগ আগে থেকেই জানা দরকার এবং কীভাবে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেবেন-সবকিছু সহজ ভাষায় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বিয়ের আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এই গাইডটি পড়ুন। সচেতন সিদ্ধান্তই নিশ্চিত করবে নিশ্চিন্ত আগামী।

পোস্ট সূচিপত্রঃ বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি-এই প্রশ্নটা অনেকেই মনে মনে ভাবেন, কিন্তু মুখ ফুটে বলেন না। আমি বলব, এটা একদম বলা উচিত। বিয়ে মানে দুটি মানুষের জীবন একসাথে বাঁধা পড়া। তাই নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সৎ হওয়াটা কোনো অপরাধ নয়। সত্যি কথা বলতে কি, এটা একটা দায়িত্ব। থ্যালাসেমিয়ার কথা শুনেছেন? এমন একটি জিনগত রোগ যা বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। দুজন ক্যারিয়ার হলে সন্তানের ২৫% সম্ভাবনা থাকে। একটা রক্ত পরীক্ষাই এই ঝুঁকিটা বলে দিতে পারে। কত সহজ, তাই না? হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি, এসটিডি-এই রোগগুলো অনেক সময় লুকিয়ে থাকে। কারো কারো কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।

বিয়ের আগে একটা পরীক্ষা করালে দুজনই নিরাপদ থাকেন। আর ভাবুন তো, সঙ্গীর স্বাস্থ্য নিয়ে কি আদৌ আপনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান? বাংলাদেশে অনেকেই মনে করেন, "আমি তো সুস্থ, দরকার কী?" কিন্তু ভাই, অনেক রোগ বাইরে থেকে ধরা পড়ে না। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড-এগুলো চুপচাপ বসে থাকে। বিয়ের পর যখন সন্তানের পরিকল্পনা করবেন, তখন এই রোগগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আগে থেকে জানলে সমাধানও সহজ। কেউ কেউ ভয় পান। মনে করেন, "পরীক্ষা করালে বিয়ে ভেঙে যাবে কি না?" আমি বলব, ভয় দেখানোর কিছু নেই। সঠিক মানুষের সাথে থাকলে সত্যিটা মেনে নেওয়া হয়। আর যদি মেনে না নেয়, তবে সেই সম্পর্কে ভবিষ্যত কী? ভেবে দেখুন।

ডাক্তারদের কথায় শুনুন। তারা বলেন, বিয়ের আগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানে শুধু রোগ ধরা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো। এই ছোট্ট পদক্ষেপটা আপনার ভবিষ্যৎ পরিবারকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে। বিয়ে মানে শুধু মিষ্টি মুখ নয়। এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত। আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে এবং সঙ্গীকে চেনাটা জরুরি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেই চেনার একটা অংশ। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা রক্ত পরীক্ষা, একটা কাউন্সেলিং-এতেই হয়তো আপনার পুরো জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন করবেন

বিয়ে মানে দুটি মানুষের জীবন একসাথে বাঁধা পড়া। তাই নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সৎ হওয়াটা কোনো অপরাধ নয়। থ্যালাসেমিয়ার কথা শুনেছেন? এমন একটি জিনগত রোগ যা বাংলাদেশে বেশি দেখা যায়। দুজন ক্যারিয়ার হলে সন্তানের ২৫% সম্ভাবনা থাকে। একটা রক্ত পরীক্ষাই এই ঝুঁকিটা বলে দিতে পারে। কত সহজ, তাই না? হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি, এসটিডি-এই রোগগুলো অনেক সময় লুকিয়ে থাকে। কারো কারো কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। বিয়ের আগে একটা পরীক্ষা করালে দুজনই নিরাপদ থাকেন। আর ভাবুন তো, সঙ্গীর স্বাস্থ্য নিয়ে কি আদৌ আপনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান? বাংলাদেশে অনেকেই মনে করেন, "আমি তো সুস্থ, দরকার কী?" কিন্তু ভাই, অনেক রোগ বাইরে থেকে ধরা পড়ে না।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড-এগুলো চুপচাপ বসে থাকে। বিয়ের পর যখন সন্তানের পরিকল্পনা করবেন, তখন এই রোগগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আগে থেকে জানলে সমাধানও সহজ। এখানেই বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি-সেটা বুঝতে পারবেন। কেউ কেউ ভয় পান। মনে করেন, "পরীক্ষা করালে বিয়ে ভেঙে যাবে কি না?" আমি বলব, ভয় দেখানোর কিছু নেই। সঠিক মানুষের সাথে থাকলে সত্যিটা মেনে নেওয়া হয়। 

আর যদি মেনে না নেয়, তবে সেই সম্পর্কে ভবিষ্যত কী? ভেবে দেখুন। ডাক্তারদের কথায় শুনুন। তারা বলেন, বিয়ের আগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানে শুধু রোগ ধরা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো। এই ছোট্ট পদক্ষেপটা আপনার ভবিষ্যৎ পরিবারকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

কোন কোন পরীক্ষা জরুরি

বিয়ের আগে কোন কোন পরীক্ষা জরুরি- অনেকেই প্রশ্নটা জানতে চান, কিন্তু সঠিক তথ্য পান না। আমি বলব, এটা জানা একদম দরকার। একটা স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে হলে আগে জানতে হবে কী কী দেখাতে হবে। রক্তের গ্রুপ জানা মাস্ট। শুনতে ছোট্ট মনে হলেও, বিয়ের পর অনেক কিছু নির্ভর করে এটার উপর। থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং তো বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশে এই রোগটা বেশি, তাই একটা হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট করালেই মিলবে সব উত্তর। হেপাটাইটিস বি এবং সি, এইচআইভি, সিফিলিস-এই তিনটা পরীক্ষা একদম ফেলা যাবে না। অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না, কিন্তু রোগটা শরীরে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। একটা রক্ত পরীক্ষায় সব বেরিয়ে আসবে। নিজের জন্য না হোক, সঙ্গীর জন্য হলেও করাবেন।
বিয়ের-আগে-স্বাস্থ্য-পরীক্ষা-কেন-জরুরি
থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ-এই তিনটা মহামারি এখন যুবকদের মধ্যেও ধরা পড়ছে। বিয়ের আগে জেনে নিলে পরে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়। বিশেষ করে বাচ্চার পরিকল্পনা করার সময় এই রোগগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই একটু সচেতনতা কম খরচে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচায়। মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটাও ভুলবেন না। কেউ কেউ মনে করেন এটা "অতিরিক্ত" কিছু। কিন্তু ভাই, বিয়ে মানে দুটি মানুষের মন মিলিয়ে চলা। 

একটা কাউন্সেলিং সেশন দুজনকেই একে অপরকে বুঝতে সাহায্য করে। এটা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটা স্মার্ট পদক্ষেপ। এই পরীক্ষাগুলো করানো মানে শুধু রোগ ধরা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে একটা সৎ সম্পর্ক তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা রক্ত পরীক্ষা, একটা কথোপকথন-এতেই হয়তো আপনার পুরো জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে।

রক্তের গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর

বিয়ের আগে রক্তের গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর জানা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ-এই প্রশ্নটা অনেকেই উড়িয়ে দেন। আমি বলব, একদম উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ছোট্ট একটা তথ্য, কিন্তু এর পেছনে বড় একটা গল্প লুকিয়ে আছে। রক্তের গ্রুপ মানে শুধু এ, বি, এবি বা ও নয়। Rh ফ্যাক্টরটাও একই সঙ্গে জানা চাই। পজিটিভ নাকি নেগেটিভ-এটা একটা ছোট্ট প্লাস বা মাইনাস চিহ্নেই লুকিয়ে থাকে। কিন্তু ভাই, এই ছোট্ট চিহ্নটাই বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভাবুন তো, মা নেগেটিভ আর বাবা পজিটিভ হলে কী হতে পারে? বিয়ের পর যখন বাচ্চার কথা ভাববেন, তখন এই Rh ফ্যাক্টর একটা বড় ভূমিকা নেয়। মা Rh নেগেটিভ হলে প্রথম গর্ভাবস্থায় সমস্যা নাও হতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়বারে শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে। 

ফলে বাচ্চার রক্ত ক্ষয় হতে পারে। একটা ইনজেকশনই এই বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে-কিন্তু সেটা জানতে হলে আগে পরীক্ষা করাতে হবে। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন, "বিয়ের পর তো দেখা যাবে।" কিন্তু ভাই, কিছু জিনিস পরে দেখলে দেরি হয়ে যায়। একটা রক্ত পরীক্ষায় পাঁচ মিনিটের কাজ। কিন্তু এই পাঁচ মিনিট আপনার সন্তানের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই না? রক্তের গ্রুপ আর Rh ফ্যাক্টর জানা মানে শুধু মেডিকেল নলেজ নয়। এটা মানে ভবিষ্যৎ পরিবারের জন্য একটা নিরাপদ পথ তৈরি করা। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা ছোট্ট রিপোর্ট-কিন্তু এর মূল্য অনেক বড়।

থ্যালাসেমিয়া ও জেনেটিক পরীক্ষা

বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া ও জেনেটিক পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই ভাবেন না। আমি বলব, এটা ভাবাটা একদম দরকার। বাংলাদেশে এই রোগটা বেশি দেখা যায়, তাই একটু সচেতনতা কম খরচে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচায়। থ্যালাসেমিয়া মানে রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে পারে না। শরীর দুর্বল হয়ে যায়, বাচ্চার বৃদ্ধি থেমে যায়। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-দুজন ক্যারিয়ার হলে সন্তানের ২৫% সম্ভাবনা থাকে। একটা হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্টই এই ঝুঁকিটা বলে দেয়। মাত্র কয়েকশো টাকার বিনিময়ে আপনি জীবন বাঁচাতে পারেন। আমাদের দেশে অনেকেই মনে করেন, "আমাদের পরিবারে তো কেউ এই রোগে ভোগেনি।" কিন্তু ভাই, ক্যারিয়ার মানে রোগী নয়।
বিয়ের-আগে-স্বাস্থ্য-পরীক্ষা-কেন-জরুরি
বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। একজন ক্যারিয়ারের রক্ত একদম স্বাভাবিক দেখায়। কিন্তু দুজন ক্যারিয়ার একসাথে হলে গেমটা পাল্টে যায়। তাই পরীক্ষা ছাড়া কিছুই বলা যায় না। জেনেটিক পরীক্ষা শুধু থ্যালাসেমিয়া নয়। সিকল সেল, জিবিডি, আরও অনেক রোগ লুকিয়ে থাকে জিনে। বিয়ের আগে একটা কাউন্সেলিং সেশনে বিশেষজ্ঞরা দুজনের ফ্যামিলি হিস্ট্রি দেখেন। কোনো ঝুঁকি থাকলে সেটা বলে দেন। এটা কোনো ভয় দেখানো নয়, বরং একটা স্মার্ট পদক্ষেপ। নিজের ভবিষ্যৎ পরিবারের জন্য একটু দায়িত্ব নেওয়া। কেউ কেউ ভয় পান। মনে করেন, "পরীক্ষা করালে বিয়ে ভেঙে যাবে কি না?" আমি বলব, ভয় দেখানোর কিছু নেই।

সঠিক মানুষের সাথে থাকলে সত্যিটা মেনে নেওয়া হয়। আর যদি মেনে না নেয়, তবে সেই সম্পর্কে ভবিষ্যত কী? ভেবে দেখুন। একটা সৎ সম্পর্কই টিকে থাকে। ডাক্তারদের কথায় শুনুন। তারা বলেন, একটা জেনেটিক স্ক্রিনিং মানে শুধু রোগ ধরা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো। এই ছোট্ট পদক্ষেপটা আপনার ভবিষ্যৎ পরিবারকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে। 

এখানেই বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি-সেটা বুঝতে পারবেন। থ্যালাসেমিয়া আর জেনেটিক পরীক্ষা করানো মানে শুধু মেডিকেল চেকআপ নয়। এটা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা নিরাপদ পথ তৈরি করা। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা রক্ত পরীক্ষা, একটা কাউন্সেলিং-এতেই হয়তো আপনার পুরো জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে।

সংক্রামক রোগের পরীক্ষা

বিয়ের আগে সংক্রামক রোগের পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই ভাবেন না। বিয়ের আগে একটু সচেতনতা কম খরচে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচায়। হেপাটাইটিস বি এবং সি-এই দুটো ভাইরাস অনেক সময় চুপচাপ বসে থাকে। কারো কারো কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। কিন্তু ভাই, বিয়ের পর এই ভাইরাস সঙ্গীর কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটা রক্ত পরীক্ষায় সব বেরিয়ে আসে। ভ্যাকসিন আছে, চিকিৎসা আছে-কিন্তু জানতে হলে আগে পরীক্ষা করাতে হবে। এইচআইভি নিয়ে কথা বলা এখনো অনেকের কাছে ট্যাবু। কিন্তু, সত্যিটা জানা জরুরি। বাংলাদেশে এই রোগটা বাড়ছে, আর অনেকেই জানেন না যে তাদের শরীরে এটা আছে। বিয়ের আগে একটা পরীক্ষা করালে দুজনই নিরাপদ থাকেন। 

এখানেই বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি-সেটা বুঝতে পারবেন। আর ভাবুন তো, সঙ্গীর স্বাস্থ্য নিয়ে কি আদৌ আপনি কোনো ঝুঁকি নিতে চান? সিফিলিস আর অন্যান্য এসটিডি-এই রোগগুলোও লুকিয়ে থাকতে পারে। অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু বিয়ের পর সঙ্গীর কাছে ছড়িয়ে পড়ে। আর গর্ভাবস্থায় বাচ্চাকেও আক্রান্ত করতে পারে। একটা সিম্পল রক্ত পরীক্ষায় সব ধরা পড়ে। এত সহজ, তাই না? কেউ কেউ ভয় পান। মনে করেন, "পরীক্ষা করালে বিয়ে ভেঙে যাবে কি না?" আমি বলব, ভয় দেখানোর কিছু নেই। সঠিক মানুষের সাথে থাকলে সত্যিটা মেনে নেওয়া হয়। আর যদি মেনে না নেয়, তবে সেই সম্পর্কে ভবিষ্যত কী? একটা সৎ সম্পর্কই টিকে থাকে।
তাই না? সংক্রামক রোগের পরীক্ষা করানো মানে শুধু রোগ ধরা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে একটা বিশ্বাস তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো। এই ছোট্ট পদক্ষেপটা আপনার ভবিষ্যৎ পরিবারকে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা রক্ত পরীক্ষা-এতেই হয়তো আপনার পুরো জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে।

প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা

বিয়ের আগে প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে অনেকেই লজ্জা পান। লজ্জার কিছু নেই। এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়, আর জেনে রাখা জরুরি। দুজন মিলে একটা পরিবার গড়বেন, তাই দুজনেরই দায়িত্ব নেওয়া উচিত। মেয়েদের জন্য একটা গাইনি চেকআপ মাস্ট। ডাক্তার দেখেন গর্ভাশয় আর ডিম্বাশয় ঠিক আছে কিনা। পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিওসিস-এই রোগগুলো এখন বেশি দেখা যায়। অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। কিন্তু বিয়ের পর যখন বাচ্চার পরিকল্পনা করবেন, তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আগে থেকে জানলে চিকিৎসা সহজ। ছেলেদের জন্যও একটা সেমেন অ্যানালাইসিস দরকার। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা খুবই সাধারণ একটা পরীক্ষা। স্পার্ম কাউন্ট আর কোয়ালিটি জানা জরুরি।  অনেক ছেলেই ভাবেন, "আমি তো সুস্থ, দরকার কী?" কিন্তু ,বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না।
বিয়ের-আগে-স্বাস্থ্য-পরীক্ষা-কেন-জরুরি
একটা রিপোর্টই সব বলে দেয়। দুজনের হরমোন লেভেলও দেখা উচিত। থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিন, টেস্টোস্টেরন-এই হরমোনগুলো প্রজনন ক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একটা রক্ত পরীক্ষায় সব বেরিয়ে আসে। আর ভাবুন তো, বিয়ের পর যদি সমস্যা হয়, তখন কি চিকিৎসা করানো সহজ হবে? নাকি আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো? প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো মানে শুধু বাচ্চার পরিকল্পনা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে একটা সৎ কথোপকথন তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট-এতেই হয়তো আপনার ভবিষ্যৎ পরিবারটা সুন্দর হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য রিপোর্ট হাতে পেলে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। এত সংখ্যা, এত নাম-কী কী পড়বেন, কী বুঝবেন-মাথা ঘুরে যায়। আমি বলব, একদম ঘুরবেন না। কিছু জিনিস জেনে রাখলেই যথেষ্ট। প্রথমে দেখুন রক্তের গ্রুপ আর Rh ফ্যাক্টর। এটা সবচেয়ে সহজ অংশ। A, B, AB, O-এর একটা হবে। পাশে পজিটিভ নাকি নেগেটিভ লেখা থাকবে। দুজনের রিপোর্ট পাশাপাশি রাখুন। মা নেগেটিভ হলে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবেন। ডাক্তার সব বলে দেবেন।

হিমোগ্লোবিনের সংখ্যাটা দেখুন। পুরুষের জন্য ১৩.৫ থেকে ১৭.৫, মহিলার জন্য ১২ থেকে ১৫.৫। এর নিচে মানে থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি আছে। MCV আর MCH দুটো সংখ্যাও দেখুন। ছোট হলে ক্যারিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা। একটা হলুদ হাইলাইট মার্কার দিয়ে রাখুন। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন। হেপাটাইটিস বি-তে HBsAg লেখা থাকে। পজিটিভ মানে ভাইরাস আছে। নেগেটিভ মানে নিরাপদ। এইচআইভিতে অ্যান্টিবডি টেস্ট দেখুন। নন-রিয়েক্টিভ মানে ভালো। 

রিয়েক্টিভ মানে আরেকটা কনফার্মেশন টেস্ট লাগবে। ভয় পাবেন না, একটা রিপোর্টই সব শেষ নয়। থাইরয়েডের TSH লেভেল দেখুন। ০.৪ থেকে ৪.০ এর মধ্যে ঠিক আছে। বেশি হলে হাইপোথাইরয়েডিজম, কম হলে হাইপারথাইরয়েডিজম। দুটোই গর্ভাবস্থায় সমস্যা তৈরি করে। ডায়াবেটিসের HbA1c দেখুন। ৫.৭ এর নিচে ঠিক আছে। বেশি হলে একটু সাবধান হতে হবে।

রিপোর্ট বুঝতে হলে ডাক্তারের কথা শুনুন। গুগলে সার্চ দিয়ে নিজে নিজে ভয় পাবেন না। একজন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। তিনি সব সংখ্যার মানে বলে দেবেন। আর মনে রাখবেন, একটা রিপোর্ট মানে শেষ কথা নয়। এটা শুধু একটা সূচনা। সঠিক পথে হাঁটার জন্য একটা ম্যাপ।

প্রচলিত ভুল ধারণা

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি-এই প্রশ্নটা অনেকেই জানতে চান, কিন্তু কিছু ভুল ধারণা তাদের পথ রোধ করে। আমি বলব, এই ভুলগুলো ভেঙে ফেলা একদম দরকার। নাহলে একটা ছোট্ট ভুল ভাবনা বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। "আমি তো সুস্থ, দরকার কী?"-এই কথাটা সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। কিন্তু, অনেক রোগ বাইরে থেকে ধরা পড়ে না। থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার হলে শরীর একদম ঠিক থাকে। হেপাটাইটিস বি-তে কারো কারো কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই সুস্থ দেখা মানে সব ঠিক-এটা একটা বড় ভুল। "পরীক্ষা করালে বিয়ে ভেঙে যাবে"-এই ভয়টা অনেকের মনে কাজ করে। সঠিক মানুষের সাথে থাকলে সত্যিটা মেনে নেওয়া হয়। আর যদি মেনে না নেয়, তবে সেই সম্পর্কে ভবিষ্যত কী? একটা সৎ সম্পর্কই টিকে থাকে। তাই না?
"এটা তো শুধু মেয়েদের জন্য"-এই ধারণাটাও ভুল। ছেলেদেরও থ্যালাসেমিয়া ক্যারিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা একই রকম। হেপাটাইটিস, এইচআইভি-কোনোটাই লিঙ্গ দেখে আসে না। দুজনের পরীক্ষা করানো উচিত। বিয়ে মানে দুজনের দায়িত্ব, একজনের নয়। "ডাক্তারের কাছে যাওয়া মানে রোগী হওয়া"-এই ভাবনাটা আমাদের দেশে এখনো প্রচলিত। কিন্তু প্রিভেনশন মানে রোগী হওয়া নয়। এটা মানে স্মার্ট হওয়া। 

একটা চেকআপ করালে আপনি রোগী হন না, বরং নিজেকে নিরাপদ রাখেন। ভেবে দেখুন। এই ভুল ধারণাগুলো ভেঙে ফেলুন।  স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানে শুধু রোগ ধরা নয়। এটা মানে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা। একজন আরেকজনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখানো। তাই একটু সাহসী হন। একটা রক্ত পরীক্ষা, একটা কথোপকথন-এতেই হয়তো আপনার পুরো জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে এতক্ষণ কথা বললাম। কিন্তু শেষে একটা কথা বলি-এটা কোনো নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা নয়। এটা একটা ভালোবাসার প্রকাশ। আপনি যাকে বিয়ে করছেন, তার প্রতি একটা দায়িত্ব নিচ্ছেন। সেই দায়িত্বটা আগে থেকেই জানা উচিত। আমি মনে করি, বাংলাদেশে এই বিষয়টা নিয়ে এখনো অনেক কথা বলা হয় না। লোকে লজ্জা পায়, ভয় পায়। কিন্তু বন্ধু, স্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা কেন? নিজের ভবিষ্যৎ পরিবারের কথা ভাবলে কি লজ্জার কিছু আছে? আমি বলব, একদম নেই। একটু সাহস দেখান। একটা কথোপকথন শুরু করুন।

আপনার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন-হয়তো কেউ কেউ বলবেন, "আগের দিনে তো এসব হতো না।" সত্যি কথা, আগের দিনে এসব হতো না। কিন্তু আগের দিনে অনেক কিছু হতো না, যা এখন হয়। সময় বদলেছে, চিকিৎসা বদলেছে। আমাদের ভাবনাও বদলানো উচিত। পুরোনো কথা শুনে নিজের জীবনটা ঝুঁকিতে ফেলবেন না।

শেষে একটাই কথা-বিয়ে মানে দুটি মানুষের মিলন। আর সেই মিলনে সৎ হওয়াটা সবচেয়ে বড় বিষয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সেই সততার একটা অংশ। তাই বিয়ের আগে একটু সময় বের করুন। একটা রক্ত পরীক্ষা, একটা কাউন্সেলিং-এতেই হয়তো আপনার পুরো জীবনটা সুন্দর হয়ে উঠবে। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। 260416

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন
comment url