দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম
দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম জানতে চান? খাবার, গোসল, স্বাস্থ্য
ও দৈনন্দিন যত্নের এমন কিছু টিপস জানুন যা অনেক বিড়াল মালিকই জানেন না। অল্প
খরচে ঘরেই আপনার প্রিয় বিড়ালকে সুস্থ, পরিষ্কার ও সক্রিয় রাখার সহজ উপায়
এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
যে টিপসগুলো জানলে আপনার বিড়াল থাকবে আরও চঞ্চল, সুস্থ এবং খুশি। নতুন বিড়াল
পালনকারীদের জন্যও রয়েছে দরকারি কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার পরামর্শ। শেষ পর্যন্ত
পড়লে এমন কিছু তথ্য জানতে পারবেন, যা অনেক বিড়ালপ্রেমীও আগে জানতেন না।
পেজ সূচিপত্রঃ দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম
- দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম
- দেশি বিড়ালের জন্য সঠিক খাবার বেছে নেওয়া কেন জরুরি
- পানি দেওয়ার সহজ উপায় আর হাইড্রেশনের গুরুত্ব
- ঘরের পরিবেশ কেমন রাখলে বিড়াল খুশি থাকে
- লিটার বক্স ট্রেনিং এর সহজ নিয়ম যা সবাই পারবেন
- স্বাস্থ্য চেকআপ, টিকা আর ডিওয়ার্মিং কখন কীভাবে করবেন
- খেলাধুলা আর ব্যায়াম কেন দরকারি আর কীভাবে করাবেন
- গ্রুমিং করার সহজ টিপস যা বাড়িতেই চালানো যায়
- দেশি বিড়ালের সাধারণ সমস্যা আর তার সমাধান
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম
দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম, নিয়মিত মেনে চললে তোমার দেশি
বিড়ালটা সুস্থ, খুশি আর দীর্ঘদিন বাঁচবে। দেশি বিড়ালগুলো আসলে খুবই শক্তসমর্থ
আর অভিযোজিত, তাই তাদের যত্নও খুব জটিল কিছু না। আমি এখানে শুধুমাত্র
বাস্তবসম্মত, সহজ নিয়মগুলো ধাপে ধাপে লিখছি, যাতে নতুন করে বিড়াল পালানো শুরু
করলেও কোনো সমস্যা না হয়।
খাবার আর পানির ব্যবস্থাঃ দেশি বিড়ালের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি রাখতে হবে।
প্রতিদিন ভালো মানের ড্রাই ক্যাট ফুড দাও, সাথে সামান্য ভেজা খাবার মিশিয়ে। ঘরে
তৈরি খাবার দিতে চাইলে সিদ্ধ মাছ, মুরগির মাংস বা ডিমের সাদা অংশ দিতে পারো-তবে
কখনো গরুর দুধ বা কাঁচা মাছ দেবে না, কারণ এতে পেটের সমস্যা হয়। দিনে দু’বার
খাওয়াও, পরিমাণটা বিড়ালের বয়স আর ওজন অনুযায়ী রাখো। পানি সবসময় পরিষ্কার আর
ঠান্ডা রাখো। একটা প্লাস্টিকের বাটি ব্যবহার করো যাতে সহজে ধোয়া যায়, আর
প্রতিদিন অন্তত দু’বার পানি বদলে দাও। গরমকালে বেশি পানি রাখো, শীতে একটু কুসুম
গরম করে দিলে ভালো লাগে।
লিটার বক্স আর পরিচ্ছন্নতাঃ ঘরের বিড়াল হলে লিটার বক্স ছাড়া চলবে না। একটা
শান্ত, অন্ধকার কোণে রাখো যাতে বিড়ালটা নিরাপদ বোধ করে। প্রতিদিন সকালে ময়লা
পরিষ্কার করে ফেলো, সপ্তাহে একবার পুরো বক্স ধুয়ে নতুন লিটার ভরো। দেশি বিড়ালরা
খুব পরিষ্কার প্রাণী, তাই বক্স নোংরা থাকলে তারা অন্য জায়গায় যেতে পারে। লিটার
হিসেবে বালি বা ক্লাম্পিং লিটার ব্যবহার করলে সুবিধা হয়। বক্সের পাশে খাবার
রাখবে না, এতে তারা অস্বস্তি বোধ করে।
খেলা, ব্যায়াম আর মানসিক যত্নঃ বিড়ালকে প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট খেলতে দাও।
লেজার পয়েন্টার, বল বা ছোট পুতুল দিয়ে খেলো। দেশি বিড়ালরা খুব চটপটে, তাই
স্ক্র্যাচিং পোস্ট রাখো যাতে নখ শান দেয়। একা থাকলে তারা বিরক্ত হয়, তাই
কয়েকটা খেলনা ছড়িয়ে রাখো। বাড়িতে উঁচু জায়গা দাও-তাক বা ক্যাট ট্রি-যাতে
তারা উঠে বসতে পারে। এতে তাদের স্ট্রেস কমে।
গ্রুমিং বা শরীরের যত্নঃ দেশি বিড়ালের চুল ছোট, তাই সপ্তাহে দু'তিনবার ব্রাশ
করলেই চলে। এতে চুল পড়া কমে আর ত্বক পরিষ্কার থাকে। চোখ আর কান সপ্তাহে একবার
নরম কাপড় দিয়ে মুছে দাও। গোসলের দরকার খুব কম, শুধু যদি খুব নোংরা হয় তাহলে
উষ্ণ পানিতে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাও। গোসলের পর ভালো করে শুকিয়ে নাও, না
হলে ঠান্ডা লাগতে পারে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা আর চিকিৎসাঃ প্রতি বছর অন্তত একবার ভেটের কাছে নিয়ে যাও। ছানা
অবস্থায় টিকা আর কৃমির ওষুধ দিতে ভুলো না। প্রাপ্তবয়স্ক হলে বছরে একবার
ডিওয়ার্মিং করাও। স্পে বা নিউটার করালে বিড়ালের আয়ু বাড়ে, অসুস্থতা কমে আর
বাড়ির পরিবেশও শান্ত থাকে। অসুস্থতার লক্ষণ দেখলে-খাওয়া কমে গেলে, বমি হলে, পেট
ফুললে বা চোখে পানি পড়লে-তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাও। দেশি বিড়ালরা সাধারণত রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো, কিন্তু অবহেলা করলে সমস্যা হয়।
বাড়ির পরিবেশ নিরাপদ করাঃ বিড়ালকে ঘরের ভেতরেই রাখো। জানালায় নেট লাগাও যাতে
পড়ে না যায়। বিষাক্ত গাছ, তারের তার বা ছোট জিনিস যা গিলে ফেলতে পারে সেগুলো
সরিয়ে রাখো। শীতে উষ্ণ জায়গা দাও-একটা নরম কম্বল বা বাক্স। গরমে ঠান্ডা মেঝে বা
ফ্যানের নিচে ছায়া রাখো। বাইরের বিড়াল হলে খাবার দিতে চাইলে উঁচু জায়গায় দাও
যাতে অন্য প্রাণীরা না খায়।
ঋতু অনুযায়ী ছোটখাটো যত্নঃ গরমকালে পানি বেশি দাও, খাবার হালকা রাখো। শীতে
বিড়ালকে ঠান্ডা লাগলে একটা পাতলা কাপড়ের গায়ে জড়িয়ে দিতে পারো, কিন্তু জোর
করে নয়। বর্ষায় ভেজা জায়গা এড়িয়ে চলো। এই সব নিয়ম মেনে চললে তোমার দেশি
বিড়ালটা সারা বছর সুস্থ থাকবে। মনে রাখবে, বিড়ালের সাথে ধৈর্য ধরে আদর করলে
তারা নিজে থেকেই তোমার কাছে আসবে। কোনো সমস্যা হলে ভেটের সাথে কথা বলো, কারণ
প্রত্যেক বিড়ালের চাহিদা একটু আলাদা হতে পারে। এভাবে যত্ন নিলে তোমাদের
বন্ধুত্বটা অনেকদিন টিকবে।
দেশি বিড়ালের জন্য সঠিক খাবার বেছে নেওয়া কেন জরুরি
খাবারই আসলে বিড়ালের যত্নের সবচেয়ে বড় অংশ। আমি যখন প্রথমবার পুষতে শুরু
করেছিলাম তখন এটা বুঝতে একটু সময় লেগেছিল। ওদের পেটটা খুব সেনসিটিভ, তাই যা তা
খাওয়ালে সাথে সাথে পেট খারাপ বা ডায়রিয়া হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায়,
একদিন ভুল খাবার দিলেই পরের দিন বিড়ালটা অলস হয়ে পড়ে, খেতে চায় না। তাই সঠিক
খাবার বেছে নেওয়াটা শুধু সুস্থ রাখার জন্য নয়, ওদের দৈনন্দিন জীবনটাকেও
স্বাভাবিক রাখার জন্য খুব জরুরি। আমি নিজে যেভাবে করি সেটা হলো, ভাতের সাথে সেদ্ধ
মাছ বা মুরগির মাংস ভালো করে মিশিয়ে দেই।
সাথে একটু সবজি যেমন গাজর বা পালং শাক কুচিয়ে যোগ করি। এতে পুষ্টি পায় আর
স্বাদও ভালো লাগে ওদের। মাছ অবশ্যই বেশি দিতে পারেন, কারণ দেশি বিড়াল মাছ খেতে
খুব পছন্দ করে। তবে কাঁচা মাছ একদম এড়িয়ে চলবেন। কাঁচা মাছ থেকে প্যারাসাইট বা
অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমি সবসময় সেদ্ধ করে দেই, যাতে
কোনো ঝামেলা না হয়। দুধের ব্যাপারে একটু সাবধান থাকুন। বড় বিড়ালের জন্য দুধ
খুব কম পরিমাণে দিন, কারণ অনেকের ল্যাকটোজ সহ্য হয় না। ফলে পেট ফুলে যায় বা
ডায়রিয়া হয়।
কিন্তু বাচ্চা বিড়ালের ক্ষেত্রে দুধ ঠিক আছে, বিশেষ করে যদি ক্যাট মিল্ক পান।
বাজারের ক্যাট ফুড যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে অবশ্যই কিনে দিতে পারেন। সেগুলোতে সব
ধরনের পুষ্টি ব্যালেন্স করা থাকে। তবে সবসময় শুধু সেটাই দিতে হবে এমন কোনো কথা
নেই। আমি সপ্তাহে তিন-চারদিন ঘরের তৈরি খাবার দিই, বাকি দিনগুলোতে একটু ক্যাট ফুড
মিশিয়ে দেই। এতে খরচও কম থাকে আর বিড়ালও বৈচিত্র্য পায়। খাওয়ানোর পরিমাণটাও
ঠিকমতো রাখুন। দিনে দুবার খাওয়ানো ভালো, প্রতিবার আধা কাপের মতো।
যদি দেখেন বিড়ালের ওজন একটু বেড়ে যাচ্ছে তাহলে অল্প অল্প করে কমিয়ে দিন। আমার
দুটো বিড়াল এই নিয়মেই চলছে। কোনো দিন পেটের সমস্যা হয়নি, ওরা সুস্থ আছে আর
চোখেমুখে জেল্লা। আপনিও যদি এভাবে খেয়াল রাখেন তাহলে আপনার বিড়ালটাও অনেক দিন
ভালো থাকবে, আর আপনারও চিন্তা কমবে।
পানি দেওয়ার সহজ উপায় আর হাইড্রেশনের গুরুত্ব
বিড়ালেরা সাধারণত পানি কম খায়, কিন্তু এটা না হলে কিডনির সমস্যা হতে পারে খুব
সহজেই। আমি দেখেছি, অনেক সময় মালিকরা এটা খেয়ালই করেন না যে পানির অভাবে
বিড়ালটা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তাই হাইড্রেশন ঠিক রাখাটা বিড়ালের যত্নের
একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবসময় তাজা পানি রাখলে ওরা সুস্থ থাকে, আর ছোটখাটো
সমস্যাগুলো এড়ানো যায়। দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম মেনে চললে
পানি দেওয়ার ব্যাপারটা আসলেই খুব সোজা হয়ে যায়। আমি দুটো বাটি রাখি-একটা
খাবারের কাছে আরেকটা একটু দূরে, যাতে ওরা ইচ্ছে করলেই খেতে পারে। প্রতিদিন দুবার
পানি বদলে দেই, গরমকালে তো আরও বেশি খেয়াল রাখি।
কখনো সপ্তাহে একদিন দুধ মিশিয়ে দিলে ওরা বেশি খায়, কিন্তু বেশি দিলে পেটের
সমস্যা হতে পারে। যদি দেখেন পানি একদম খাচ্ছে না, তাহলে ফাউন্টেন টাইপের বাটি
কিনে দিন-চলমান পানি ওদের খুব পছন্দ। এভাবে পানির ব্যবস্থা ঠিক রাখলে ইউরিনারি
সমস্যা অনেক কমে যায়, আর বিড়ালটা অনেক দিন সুস্থ থাকে। আমার নিজের অভিজ্ঞতায়
বলছি, এই ছোট ছোট নিয়মগুলো মেনে চললে বিড়ালের সাথে সম্পর্কটাও ভালো হয়। আপনিও
একবার চেষ্টা করে দেখুন, খুব তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।
ঘরের পরিবেশ কেমন রাখলে বিড়াল খুশি থাকে
দেশি বিড়াল সাধারণত বাইরের খোলা পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত, তাই ঘরের ভিতরে রাখলে
তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং নিরাপদ একটা পরিবেশ তৈরি করা খুবই জরুরি। আমার
অভিজ্ঞতায় দেখেছি, জানালায় মশারি বা নেট লাগিয়ে রাখলে ওরা বাইরের দৃশ্য দেখে
অনেকক্ষণ কাটিয়ে দেয়, এতে তাদের একঘেয়েমি কমে। এছাড়া আলমারির উপরে বা দেয়ালে
একটা শক্ত কাঠের তাক বা উঁচু জায়গা করে দিলে ওরা সেখানে উঠে বসে চারপাশটা দেখতে
খুব মজা পায়। শোয়ার জন্য দামি বিছানার দরকার নেই, একটা পুরনো কার্ডবোর্ডের
বাক্সের ভিতর নরম কাপড় বা তোয়ালে পেতে দিলেই ওরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমায়। ঘরের
তাপমাত্রা যেন খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
আর একটা স্ক্র্যাচিং পোস্ট রাখলে ওরা নখ দিয়ে আঁচড়াতে পারবে, ফলে আপনার সোফা বা
আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। ঘরটা সবসময় পরিষ্কার রাখুন, কারণ
ধুলোবালি জমলে বিড়ালেরা অস্বস্তি বোধ করে। মোটকথা, ঘরের পরিবেশ এমন করে সাজান
যাতে আপনার বিড়ালটা নিজেকে নিরাপদ এবং আরামদায়ক মনে করে-তাহলেই সে সত্যিকার
অর্থে খুশি থাকবে।
লিটার বক্স ট্রেনিং এর সহজ নিয়ম যা সবাই পারবেন
লিটার বক্স ট্রেনিং প্রথমে অনেকের কাছেই একটু ঝামেলার মনে হয়। কিন্তু আসলে এটা
খুব সহজ এবং বিড়াল দ্রুত শিখে যায়। আমার প্রথম বিড়ালটা মাত্র দু’দিনেই এই
অভ্যাসটা করে ফেলেছিল। একটা ভালো প্লাস্টিকের বাক্স কিনে নিন এবং ভিতরে কাঠের
গুঁড়ো বা ক্যাট লিটার ভরে দিন। প্রতিদিন অন্তত একবার বাক্সটি পরিষ্কার করুন।
দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম অনুসরণ করলে লিটার বক্স ট্রেনিং
অনেক সহজ হয়ে যায়। খাবার খাওয়ার পর বিড়ালকে বাক্সে বসিয়ে দিন।
যদি ভুল জায়গায় করে তাহলে সেই জায়গা পরিষ্কার করে আবার বাক্সে নিয়ে যান। এভাবে
ধৈর্য ধরে চালালে খুব তাড়াতাড়ি ফল পাবেন। গন্ধ কমানোর জন্য লিটার চেঞ্জ করার
সময় সামান্য বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘর পরিষ্কার থাকবে এবং বিড়ালও
স্বস্তিতে থাকবে।
স্বাস্থ্য চেকআপ, টিকা আর ডিওয়ার্মিং কখন কীভাবে করবেন
দেশি বিড়ালের যত্ন নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম মেনে চললে স্বাস্থ্য চেকআপ, টিকা
আর ডিওয়ার্মিং এর ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশি বিড়াল দেখতে
যত শক্তসমর্থই হোক না কেন, ছোটখাটো অসুস্থতা থেকে বড় সমস্যা এড়াতে নিয়মিত এসব
করা দরকার। আমি নিজে প্রথমে এটা একটু অবহেলা করেছিলাম, কিন্তু পরে বুঝলাম যে
ঠিকমতো টিকা আর ডিওয়ার্মিং না করলে বিড়ালটা হঠাৎ করে পেটের সমস্যায় ভুগতে
পারে। দু’মাস বয়স হলে প্রথম কম্বো টিকা দিন, তার এক মাস পর বুস্টার ডোজটা দিতে
ভুলবেন না। তিন মাস বয়সে রেবিস টিকাটা দিয়ে ফেলুন।
আরো পড়ুনঃ ১৫টি উপায়ে যেভাবে লম্বা হওয়া যায়
আর প্রতি ছয় মাস অন্তর ডিওয়ার্মিং ট্যাবলেট খাওয়ান, যাতে পেটের পোকা না হয়। আমি
স্থানীয় ভেটের কাছ থেকে এসব করাই, খরচও কম পড়ে। বছরে অন্তত একবার ভেটের কাছে
নিয়ে গিয়ে ওজন, দাঁত আর সাধারণ স্বাস্থ্য চেক করান। যদি খাওয়া কমে যায়, বমি হয়
বা ডায়রিয়া দেখা দেয় তাহলে তাড়াতাড়ি নিয়ে যান। এভাবে নিয়ম মেনে চললে আপনার
বিড়ালটা অনেক দিন সুস্থ আর খুশি থাকবে।
খেলাধুলা আর ব্যায়াম কেন দরকারি আর কীভাবে করাবেন
দেশি বিড়াল দেখতে যত শান্তই হোক না কেন, আসলে ওরা খুবই চঞ্চল প্রাণী। যদি
প্রতিদিন খেলাধুলা বা ব্যায়াম না করান তাহলে ওরা বোর হয়ে যায়, ফলে আসবাবপত্র নখ
দিয়ে আঁচড়াতে শুরু করে বা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি নিজে দেখেছি, খেলা না হলে
বিড়ালের ওজন বেড়ে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয় এবং সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। তাই
প্রতিদিন অন্তত দশ-পনেরো মিনিট খেলা ওদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই
জরুরি-এতে ওরা সক্রিয় থাকে, স্ট্রেস কমে এবং আপনার সাথে বন্ধুত্বটাও আরও গভীর হয়।
খেলানোর জন্য দামি খেলনার দরকার নেই।
আমি সাধারণত একটা লেজার পয়েন্টার বা সস্তা রাবারের বল দিয়ে খেলাই, আর কাগজ মুড়িয়ে
ছোট বল বানিয়ে ছুড়ে দিলে ওরা ছুটে গিয়ে ধরে খুব মজা পায়। রাতে যদি বিড়ালটা বেশি
চঞ্চল হয় তাহলে সন্ধ্যাবেলায় ভালো করে খেলিয়ে নিন, তাহলে রাতে ঘুমাতে সুবিধা হয়।
আপনি যদি নিয়মিত এভাবে খেলান তাহলে দেখবেন বিড়ালটা সুস্থ, খুশি এবং আপনার বাসার
জিনিসপত্রও নিরাপদ থাকবে।
গ্রুমিং করার সহজ টিপস যা বাড়িতেই চালানো যায়
দেশি বিড়ালের চুল খুব বেশি ঝরে না বলে অনেকে গ্রুমিংকে অবহেলা করেন, কিন্তু আসলে
সপ্তাহে একদিন নিয়মিত ব্রাশ করলে চুলের জট ছাড়ানো যায় এবং ত্বকের নিচে লুকিয়ে
থাকা ময়লা বেরিয়ে আসে। আমি নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ব্রাশ করি, জোর করে টানাটানি
করি না যাতে বিড়ালটা বিরক্ত না হয়। এতে ওর চামড়া পরিষ্কার থাকে আর চুল পড়ার
পরিমাণও অনেক কমে যায়। চোখ আর কান পরিষ্কার রাখাটাও খুব সহজ। দেশি বিড়ালের যত্ন
নেওয়ার সঠিক ও সহজ নিয়ম মেনে চললে এই কাজগুলো বাড়িতেই করে ফেলা যায়। সামান্য
গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে চোখের কোণা আর কানের ভিতরটা আলতো করে মুছে দিলেই হয়, কোনো
দামি প্রোডাক্ট লাগে না।
নখ বেশি লম্বা হলে সাবধানে কেটে দিন, তবে প্রথমবার ভেটের কাছে দেখিয়ে নেওয়া ভালো
যাতে ভুল না হয়। এভাবে গ্রুমিং করলে শুধু বিড়াল সুস্থ থাকে না, আপনার সাথে ওর
বন্ধুত্বটাও অনেক গভীর হয়। আমার নিজের বিড়াল দুটো গ্রুমিংয়ের সময় খুব শান্ত হয়ে
বসে, যেন বুঝতে পারে আমি ওদের ভালোর জন্যই করছি। বাড়িতে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো
মেনে চললে বড় কোনো সমস্যা এড়ানো যায় এবং বিড়ালটা সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।
দেশি বিড়ালের সাধারণ সমস্যা আর তার সমাধান
দেশি বিড়াল দেখতে যত শক্তসমর্থই হোক না কেন, কিছু ছোটখাটো সমস্যা প্রায়ই দেখা
দেয় যা অনেক মালিকের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে কমন হলো পেটের পোকা, যার
জন্য বিড়ালটা হঠাৎ করে খাওয়া কমিয়ে দেয়, ওজন কমে যায় আর কখনো কখনো বমি বা
ডায়রিয়াও হয়। আরেকটা বড় সমস্যা চুলকানি-ত্বকে লালচে দাগ বা চুল পড়ে যায়, যা
অ্যালার্জি বা বাইরের কোনো পোকা থেকে হতে পারে। দাঁতের সমস্যাও কম হয় না, বিশেষ
করে যাদের ঘরের খাবার বেশি খাওয়ানো হয় তাদের মাড়ি ফুলে যায় বা দুর্গন্ধ হয়। এছাড়া
যদি বিড়ালটা খুব বেশি মিয়াও করে বা এক জায়গায় বসে থাকে তাহলে বুঝতে হবে হয়
স্ট্রেস নয়তো খাবারে কোনো সমস্যা আছে।
আমি নিজে প্রথমবার এসব দেখে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু পরে বুঝলাম এগুলো
সময়মতো ধরতে পারলে খুব সহজেই সামলানো যায়। এসব সমস্যার সমাধান আসলে খুব জটিল কিছু
নয়, শুধু নিয়মিত খেয়াল রাখলেই হয়। পেটের পোকা হলে প্রতি ছয় মাস অন্তর ডিওয়ার্মিং
ট্যাবলেট খাওয়ান, আর চুলকানি দেখলে ভেটের কাছে নিয়ে গিয়ে অ্যালার্জির ওষুধ দিন।
দাঁতের যত্নের জন্য সপ্তাহে দু-তিনবার নরম কাপড় দিয়ে দাঁত মুছে দিলে অনেকটা
সমস্যা কমে।
যদি মিয়াও বেশি হয় তাহলে খাবার চেঞ্জ করে দেখুন বা ঘরের পরিবেশ একটু শান্ত করুন।
আমার অভিজ্ঞতায় বলছি, ছোটখাটো লক্ষণগুলো আগে থেকে নজরে রাখলে বড় অসুস্থতা
একেবারেই এড়ানো যায়। আর সন্দেহ হলেই তাড়াতাড়ি ভেট দেখান, কারণ দেশি বিড়ালেরা
অনেক সময় লক্ষণ লুকিয়ে রাখে। এভাবে যত্ন নিলে আপনার বিড়ালটা সুস্থ আর স্বাভাবিক
জীবন কাটাতে পারবে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
দেশি বিড়াল পোষা মানে আসলে শুধু খাবার-পানি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা নয়, ওদের সাথে
একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলা। আমি যখন প্রথম পুষতে শুরু করেছিলাম তখন অনেক ভুল
করেছি, কিন্তু এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চলার পর দেখলাম বিড়াল দুটো কতটা খুশি আর
সুস্থ হয়ে উঠেছে। আপনিও যদি এই টিপসগুলো অনুসরণ করেন তাহলে আপনার বিড়ালটাও অনেক
দিন আপনার সাথে সুন্দর সময় কাটাবে। কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, কোনো
প্রশ্ন থাকলে জানান-আমি সাহায্য করব। বিড়ালের সাথে আনন্দময় দিন কাটান! 260416


