স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ
স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ খুঁজছেন? ক্লাস, কোচিং বা ভ্রমণের মাঝপথে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে যে সমস্যায় পড়তে হয়, তার সহজ সমাধান এখানে পাবেন। কোন পাওয়ার ব্যাংক বেশি ব্যাকআপ দেয়, কোনটি দীর্ঘদিন ভালো চলে এবং কম বাজেটে সেরা অপশন জানুন।
কম বাজেটে ভালো চার্জিং স্পিড, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ আর আসল পারফরম্যান্স নিয়ে থাকছে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিস্তারিত আলোচনা। কেনার আগে এই তথ্যগুলো দেখে নিলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা ডিভাইসটি বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে।
পেজ সূচিপত্রঃ স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ
- স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ
- স্টুডেন্টদের পাওয়ার ব্যাংক বেছে নেওয়ার সময় কী কী দেখবে?
- ক্যাপাসিটি কত মিলিএম্পিয়ার হলে স্টুডেন্টদের জন্য পারফেক্ট?
- ২০২৬ সালে সেরা বাজেট পাওয়ার ব্যাংক কোনগুলো?
- ফাস্ট চার্জিং আর মাল্টি পোর্টের দরকার কতটা?
- লাইটওয়েট ডিজাইন-ব্যাগে বহন করা সহজ কোন মডেল?
- Baseus, Xiaomi, Oraimo আর Joyroom-আমার রিয়েল রিভিউ
- আমার স্টুডেন্ট বন্ধুদের এক্সপেরিয়েন্স আর কমন ভুল
- বাংলাদেশে কোথায় কিনবেন আর কত টাকায়?
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ
স্টুডেন্ট লাইফে পাওয়ার ব্যাংক ছাড়া চলে না। ক্লাসে বসে নোট নিতে নিতে ফোনের
চার্জ শেষ, লাইব্রেরিতে অ্যাসাইনমেন্ট করতে করতে ব্যাটারি ডাউন, বা বাসে যেতে
যেতে হেডফোন চার্জ শেষ-এসব তো আমরা সবাই ফেস করি। এখানে শুধু ২০২৬ সালের
বাংলাদেশ মার্কেটের আপডেট দাম আর রিয়েল স্পেকস নিয়ে স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার
ব্যাংক রিভিউ দিচ্ছি। কয়েকটা মডেলের বিস্তারিত রিভিউ লিখছি। সবগুলোই
স্টুডেন্টদের বাজেট আর ব্যাগের সাইজ মাথায় রেখে বেছে নিয়েছি। চলুন জেনে নেওয়া
যাক।
- Awei P10K ১০,০০০mAh ২২.৫W PD ফাস্ট চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক-দামঃ মাত্র ৯৯৯ টাকা (ডারাজে অফারে কখনো ৯৫০-এও পাওয়া যায়)। এটা স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে বেস্ট এন্ট্রি লেভেল অপশন। ওজন খুব কম, ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলে টেরই পাবেন না। টাইপ-সি আর ইউএসবি দুটো পোর্ট আছে, ২২.৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে। একজন পরিচিত বলছিলেন, তার রেডমি ফোনটা একবার পুরো চার্জ করে দেয় আর বাকি ৩০-৪০% থাকে। ডিজিটাল ডিসপ্লে নেই, কিন্তু চারটে ছোট এলইডি লাইট আছে যা ব্যাটারি লেভেল দেখায়। স্টুডেন্টদের জন্য পারফেক্ট কারণ দাম কম, কিন্তু কাজের কাজ করে। একটা মাইনাস পয়েন্ট-চার্জ হতে একটু সময় লাগে (প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা)। তবে ক্লাসের ফাঁকে প্লাগ ইন করে রাখলে চলে যায়।
- Baseus Adaman Metal ১০,০০০mAh ২২.৫W ডিজিটাল ডিসপ্লে পাওয়ার ব্যাংক-দামঃ ১,৭১৫ থেকে ১,৯৯০ টাকার মধ্যে। এটার বিল্ড কোয়ালিটি দেখলে মনে হয় দামের চেয়ে বেশি ভ্যালু দিচ্ছে। মেটাল বডি, ডিজিটাল স্ক্রিনে একদম সঠিক পার্সেন্ট দেখায়-এটা স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে হেল্পফুল। ফাস্ট চার্জিং আছে, দুটো ডিভাইস একসাথে চার্জ করা যায়। অনেক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট এটা ব্যবহার করেন কারণ এটা পকেটে ফিট হয় আর হিটও কম করে। ১০,০০০mAh রিয়েল ক্যাপাসিটি প্রায় ৬,৫০০-৭,০০০mAh এর মতো কাজ করে, যা একটা আইফোন বা স্যামসাংকে দেড়-দুইবার চার্জ দেয়। কনসঃ একটু ভারী অন্য ১০ক মডেলের চেয়ে, কিন্তু স্টুডেন্ট লাইফে এই দামে এত ফিচার আর কোথায় পাবেন?
- ৩. Xiaomi ২২.৫W ১০,০০০mAh ফাস্ট চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক-দামঃ ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। শাওমি তো সবসময় ভ্যালু ফর মানি দেয়। এটা স্লিম ডিজাইন, হালকা ওজন, আর টাইপ-সি পোর্ট দিয়ে নিজেও দ্রুত চার্জ হয়। স্টুডেন্টদের জন্য আইডিয়াল কারণ ক্লাসের মাঝে ফোন চার্জ করতে গেলে ৩০-৪০ মিনিটে ৫০% উঠে যায়। অনেক রিভিউতে দেখা গেছে এটা ১.৮-২ বার ফোন চার্জ দেয়। ডিজিটাল ডিসপ্লে নেই কিন্তু লাইট ইন্ডিকেটর সহজ। একটা ছোট সমস্যা হলো লং টার্মে কখনো কখনো হিটিং করে যদি একসাথে দুটো ডিভাইস চার্জ করেন, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারে কোনো ইস্যু নেই। দামটা দেখে অনেকেই এটাই নেন।
- Awei P6K ২০,০০০mAh ডুয়াল পোর্ট ফাস্ট চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক-দামঃ ১,৫০২ টাকা (কখনো ১,৪০০-এ নেমে আসে)। যারা একটু বেশি ব্যাকআপ চান, তাদের জন্য এটা দারুণ। স্টুডেন্টদের জন্য পুরো দিনের ক্লাস, ল্যাব, আর বাড়ি ফেরার পথ-সব কভার করে। ২০,০০০mAh এর কারণে দুই-আড়াইবার ফোন চার্জ হয়। ডুয়াল ইউএসবি পোর্ট আছে, ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে। ওজন একটু বেশি (প্রায় ৩৫০ গ্রাম), কিন্তু ব্যাগে রাখলে চলে। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা বাজেটে ২০ক মডেলের মধ্যে সবচেয়ে রিলায়েবল। কনসঃ চার্জ হতে ৬-৭ ঘণ্টা লাগে, তাই রাতে চার্জ করে রাখতে হয়।
- Oraimo PowerNova Q21 ২০,০০০mAh ২২.৫W ডিজিটাল ডিসপ্লে পাওয়ার ব্যাংক-দামঃ ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। এটা দেখতে সুন্দর আর ডিজিটাল স্ক্রিনটা খুব হেল্পফুল। স্টুডেন্টরা যারা ট্রাভেল করে বা ক্যাম্পাসে অনেক ঘোরেন, তাদের জন্য পারফেক্ট। ফাস্ট চার্জিং খুব ভালো কাজ করে, টাইপ-সি ইনপুট-আউটপুট দুটোই আছে। রিয়েল ব্যাকআপ ভালো, প্রায় দুইবার পুরো চার্জ দেয়। হিটিং কম, আর বিল্ড কোয়ালিটি প্রিমিয়াম ফিল দেয়। দামটা একটু বেশি লাগতে পারে কিন্তু লং টার্মে টাকা উশুল হয়। একমাত্র অসুবিধা হলো সাইজটা অন্য ১০ক মডেলের চেয়ে বড়, তাই পকেটে নেওয়া যায় না।
- Joyroom JR-PBF12 ১০,০০০mAh ১২W LED পাওয়ার ব্যাংক-দামঃ মাত্র ৮৫০ টাকা। সবচেয়ে বাজেট ফ্রেন্ডলি অপশন। যারা খুব কম খরচে কিছু চান, তাদের জন্য এটা। সিম্পল ডিজাইন, এলইডি লাইট আছে, আর দৈনিক ব্যবহারে একবার ফোন চার্জ দেয়। স্টুডেন্টদের জন্য যারা শুধু ইমার্জেন্সি ব্যাকআপ চান, এটা আইডিয়াল। ফাস্ট চার্জিং নেই, কিন্তু সেফ আর লং লাস্টিং। কনসঃ চার্জিং স্পিড স্লো, তাই রাতে চার্জ করতে হবে। তবু ৮৫০ টাকায় এতটা কাজের জিনিস আর কোথায়?
এগুলোর মধ্যে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ Baseus বা Awei P10K-দাম আর পারফরম্যান্সের
ব্যালেন্স ভালো। কেনার আগে অবশ্যই অরিজিনাল শপ থেকে নেবেন, আর ওয়ারেন্টি চেক
করে নেবেন।
স্টুডেন্টদের পাওয়ার ব্যাংক বেছে নেওয়ার সময় কী কী দেখবে?
আসলে এই জিনিসটা কেনার আগে অনেকেই শুধু দাম দেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন, আর পরে আফসোস
করেন। আমি নিজে যখন প্রথমবার কিনেছিলাম তখন এই ভুলটা করেছিলাম। একদম সোজা
কথায় বলি, পাওয়ার ব্যাংক বেছে নেওয়ার সময় আপনাকে কয়েকটা জিনিস খুব মন দিয়ে
দেখতে হবে, নইলে ক্যাম্পাস লাইফে এটা আপনার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
প্রথম আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওজন। কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে তো
সারাদিন ব্যাগ কাঁধে ঘুরতে হয়-ক্লাস থেকে লাইব্রেরি, লাইব্রেরি থেকে
ক্যান্টিন, তারপর বাসায় ফেরার পথে ট্রাফিক। এমন অবস্থায় যদি পাওয়ার ব্যাংকটা
এক কেজি ওজনের হয় তাহলে বহন করাই কষ্ট। আমি বলব, ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রামের মধ্যে
হলে সবচেয়ে আরামদায়ক। স্লিম ডিজাইনের মডেলগুলো পকেটে বা ছোট ব্যাগে সহজে ঢুকে
যায়, আর আপনার কাঁধও ব্যথা করে না।
দ্বিতীয় যেটা দেখবেন সেটা হলো চার্জিং স্পিড। আজকাল ফোনগুলো তো ফাস্ট চার্জিং
সাপোর্ট করে, তাই পাওয়ার ব্যাংকেও কমপক্ষে ১৮ ওয়াট বা তার বেশি হওয়া উচিত।
ধরুন ক্লাসের ফাঁকে মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় পেলেন, তখন যদি আপনার ফোনটা ৪০-৫০
শতাংশ চার্জ হয়ে যায় তাহলে কত সুবিধা হয় ভাবুন তো। ২২.৫ ওয়াট বা ৩৩ ওয়াটের
মডেলগুলো আরও ভালো কাজ করে। শুধু তাই না, PD (Power Delivery) সাপোর্ট থাকলে
ল্যাপটপ বা ট্যাবও চার্জ করতে পারবেন-অনলাইন ক্লাস বা অ্যাসাইনমেন্টের সময়
এটা লাইফসেভার।
তৃতীয় পয়েন্ট হলো পোর্টের সংখ্যা। অনেক সময় আপনার ফোন চার্জ করতে করতে পাওয়ার
ব্যাংকটাও চার্জ শেষ হয়ে যায়। তখন যদি দুইটা ইনপুট-আউটপুট পোর্ট থাকে তাহলে
একসাথে দুটো কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। আর বন্ধুর ফোনটা হঠাৎ লো হয়ে গেলে
সাহায্য করতে পারবেন। আমি সাধারণত দুইটা USB আউটপুট আর একটা টাইপ-সি পোর্ট
থাকা মডেল পছন্দ করি।
চতুর্থ যেটা একদম অবহেলা করা উচিত না সেটা হলো সেফটি ফিচার। ওভারচার্জ
প্রোটেকশন, শর্ট সার্কিট প্রোটেকশন আর ওভারহিটিং প্রিভেনশন থাকলে মনের শান্তি
পাবেন। কারণ সস্তা কোনো ব্র্যান্ড কিনলে অনেক সময় ব্যাটারি ফুলে যায় বা গরম
হয়ে বিপদ ডেকে আনে। ভালো ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংকে এই সব প্রোটেকশন
স্ট্যান্ডার্ড থাকে।
ক্যাপাসিটি কত মিলিএম্পিয়ার হলে স্টুডেন্টদের জন্য পারফেক্ট?
স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ করার সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা আসে
ক্যাপাসিটি নিয়ে। আমার অভিজ্ঞতায় ১০,০০০ এমএএইচ ক্যাপাসিটির পাওয়ার
ব্যাংকটাই স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট। সকালে একবার ফুল চার্জ করে
বের হলে আপনার ফোনটা তিন থেকে চারবার পর্যন্ত ফুল চার্জ হয়ে যায়, যা ক্লাস,
লাইব্রেরি, ক্যান্টিন আর বাসায় ফেরার পুরো দিনটাকে সহজ করে দেয়। আর ৫,০০০
এমএএইচ নিলে একবার চার্জ করার পরই শেষ, তাই সেটা একদম কম পড়ে যায়।
২০,০০০ এমএএইচ নিলে আরও ভালো হয় কারণ এক চার্জে পাঁচ-ছয়বার ফোন চার্জ করা
যায়, কিন্তু ওজন একটু বেশি হয় বলে অনেকে ক্যাম্পাসে বহন করতে অসুবিধা পান।
আর ৩০,০০০ এর উপরে গেলে ব্যাগটা এত ভারী লাগে যে সারাদিন ঘুরতে গিয়ে কাঁধ
ব্যথা করে। তাই আমি বলব, বেশিরভাগ স্টুডেন্টের জন্য ১০,০০০ থেকে ২০,০০০
এমএএইচের মধ্যে যেকোনোটা নিলে দৈনন্দিন রুটিনের সাথে পুরোপুরি মানিয়ে যাবে
আর পরে আফসোস করতে হবে না।
২০২৬ সালে সেরা বাজেট পাওয়ার ব্যাংক কোনগুলো?
এ বছর বাজারে যেগুলো সত্যি ভালো চলছে আর স্টুডেন্টদের বাজেটের মধ্যে পড়ে
সেগুলোর মধ্যে Baseus Adaman সিরিজটা একদম টপে রয়েছে। মেটাল বডি, ডিজিটাল
ডিসপ্লে আর ২২.৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং দিয়ে এটা ক্যাম্পাস লাইফের জন্য দারুণ
মানিয়ে যায়। Xiaomi-এর ২২.৫ ওয়াটের মডেলগুলোও দামে অনেক কম কিন্তু
পারফরম্যান্সে কোনো আপস করে না। আমি নিজে যখন বন্ধুদের সাথে কথা বলি তখন
দেখি এই দুটো ব্র্যান্ডই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে কারণ চার্জ ধরে রাখা, গরম
না হওয়া আর দামের সাথে ভ্যালু-সবকিছু ব্যালেন্সড।
Oraimo আর Joyroom-এর কিছু মডেল ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় যা
স্টুডেন্টদের পকেটের সাথে পুরোপুরি মানিয়ে যায়। এগুলোতে স্লিম ডিজাইন আর
মাল্টি পোর্ট থাকায় একসাথে দুই-তিনটা ডিভাইস চার্জ করা যায়। Anker Nano বা
UGREEN-এর কিছু নতুন বাজেট অপশনও এসেছে যেগুলো লং টার্ম ডিউরেবিলিটিতে
ভালো। আমার মতে যদি আপনার বাজেট ২০০০ টাকার আশেপাশে হয় তাহলে Baseus বা
Xiaomi নিয়ে নিন, আর যদি আরও কম খরচ করতে চান তাহলে Oraimo বা Joyroom
দেখুন-পরে আফসোস করার কোনো চান্স নেই।
ফাস্ট চার্জিং আর মাল্টি পোর্টের দরকার কতটা?
ক্লাসের মাঝখানে ফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে যে কতটা অসুবিধা হয় সেটা তো
আপনি নিজেও জানেন। স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ করার সময় দেখা যায়
যে ফাস্ট চার্জিং আর মাল্টি পোর্ট ছাড়া আজকাল চলাই যায় না। কারণ সকালে বের
হওয়ার পর থেকে সারাদিন ক্লাস, লাইব্রেরি, গ্রুপ স্টাডি আর বাসায় ফেরা-এই পুরো
সময়টায় ফোনটা যদি মাঝপথে মরে যায় তাহলে নোটস নেওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া
বা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ সবকিছু আটকে যায়।
আরো পড়ুনঃ পনেরশো টাকার নিচে কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার
তাই ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট থাকা খুব জরুরি। ধরুন ক্লাসের ফাঁকে মাত্র ১৫-২০
মিনিট ব্রেক পেলেন, তখন যদি পাওয়ার ব্যাংকটা ১৮ ওয়াট বা ২২.৫ ওয়াটের ফাস্ট
চার্জিং দিতে পারে তাহলে ফোনটা ৪০-৫০ শতাংশ চার্জ হয়ে যায়। এতে আপনার পরের
ক্লাসটা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন। আর PD সাপোর্ট থাকলে ল্যাপটপ বা
ট্যাবও চার্জ করা যায়, যা অনলাইন ক্লাস বা প্রেজেন্টেশন তৈরির সময় সত্যি
লাইফসেভার হয়ে দাঁড়ায়।
লাইটওয়েট ডিজাইন-ব্যাগে বহন করা সহজ কোন মডেল?
ক্যাম্পাস লাইফে সারাদিন ব্যাগ কাঁধে ঘুরতে হয়-ক্লাস থেকে লাইব্রেরি, লাইব্রেরি
থেকে ক্যান্টিন, তারপর বাসায় ফেরার পথে ট্রাফিক। এমন অবস্থায় যদি পাওয়ার
ব্যাংকটা ভারী হয় তাহলে বহন করাই কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। আমি নিজে যখন স্টুডেন্ট
ছিলাম তখন ভারী মডেল কিনে অনেকবার আফসোস করেছি। তাই লাইটওয়েট ডিজাইন ছাড়া
স্টুডেন্টদের পাওয়ার ব্যাংক ভাবাই যায় না। স্লিম আর হালকা মডেলগুলো পকেটে বা
ছোট ব্যাগের এক কোণায় সহজে ঢুকে যায়, কাঁধে কোনো চাপ পড়ে না।
Baseus-এর কিছু মডেল মাত্র ১৮০-২০০ গ্রামের নিচে, যা হাতে নিলে মনে হয়ই না কোনো
জিনিস বহন করছেন। Xiaomi-এর স্লিম সিরিজও একইরকম হালকা আর পাতলা, পকেটে ফিট হয়ে
যায়। এগুলো ব্যাগে রাখলে একদম টের পাওয়া যায় না, অথচ চার্জিং পারফরম্যান্সে
কোনো আপস করে না। ভারী জিনিস নিয়ে সারাদিন ঘুরতে কে চায় বলুন? এই লাইটওয়েট
মডেলগুলো নিলে আপনার দৈনন্দিন রুটিনটা অনেক সহজ আর আরামদায়ক হয়ে যাবে।
Baseus, Xiaomi, Oraimo আর Joyroom-আমার রিয়েল রিভিউ
Baseus Adaman সিরিজ নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমি নিজে ২০,০০০
এমএএইচের মডেলটা কয়েক মাস ব্যবহার করেছি। মেটাল বডি, ডিজিটাল ডিসপ্লে আর ২২.৫
ওয়াট ফাস্ট চার্জিংয়ের কম্বিনেশনটা সত্যিই দারুণ। চার্জ দ্রুত দেয়, গরম হয় না
এবং চার্জও অনেকদিন ধরে রাখে। Oraimo-এর মডেলগুলো দেখতে বেশ সুন্দর এবং দামেও
তুলনামূলক সাশ্রয়ী। Joyroom-এর কিছু মডেলে ডিসপ্লে থাকায় চার্জের পরিমাণ বোঝা
সহজ হয়।
স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ করার সময় আমি দেখেছি যে এই দুই
ব্র্যান্ড লং টার্ম ডিউরেবিলিটিতে একটু পিছিয়ে থাকে। Xiaomi-এর ১০,০০০ এবং
২২.৫ ওয়াট মডেলগুলো দামের তুলনায় পারফরম্যান্স অনেক ভালো। স্লিম ডিজাইন আর
হালকা ওজনের কারণে ক্যাম্পাস লাইফে বহন করা খুব সহজ। সব মিলিয়ে Baseus আর
Xiaomi-কে আমি স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে বেশি রেকমেন্ড করব।
আমার স্টুডেন্ট বন্ধুদের এক্সপেরিয়েন্স আর কমন ভুল
আমার স্টুডেন্ট বন্ধুদের সাথে কথা বললে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে অনেক মজার কিন্তু
শিক্ষণীয় গল্প শোনা যায়। এক বন্ধু সস্তায় একটা অজানা ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক
কিনেছিল। প্রথম এক মাস ভালো চললেও তারপর হঠাৎ ব্যাটারি ফুলে উঠতে শুরু করল। ভয়ে
সেটা আর ব্যবহার করতে সাহস পায়নি। আরেকজন ভারী ৩০,০০০ এমএএইচের পাওয়ার ব্যাংক
কিনে ক্যাম্পাসে বহন করতে পারত না বলে বাসায় পড়ে থাকত। এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে
বোঝা যায় যে শুধু দাম দেখে কিনলে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।
স্টুডেন্ট লাইফে এমন ভুল তো প্রায়ই হয়।স্টুডেন্টদের জন্য পাওয়ার ব্যাংক রিভিউ
পড়ার আগে অনেকেই কমন ভুল করে ফেলে। যেমন ব্র্যান্ড না দেখে সস্তা চাইনিজ
প্রোডাক্ট কেনা, ওজন চেক না করা, আর ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট আছে কি না তা যাচাই
না করা।তাই আমি সবাইকে বলি, পাওয়ার ব্যাংক কেনার আগে অবশ্যই রিভিউ পড়ে নিন,
অরিজিনাল শপ বা বিশ্বস্ত অনলাইন সেলার থেকে কিনুন এবং আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের
সাথে মিলিয়ে ক্যাপাসিটি আর ওজন বেছে নিন। এভাবে করলে পরে আফসোস করতে হবে না।
বাংলাদেশে কোথায় কিনবেন আর কত টাকায়?
বাংলাদেশে পাওয়ার ব্যাংক কিনতে গেলে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গাগুলো হলো রায়ান্স
কম্পিউটার্স, স্টার টেক, টেকল্যান্ড আর মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের মতো দোকান। এসব
জায়গায় গেলে আপনি প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে দেখে নিতে পারবেন, ওয়ারেন্টি কার্ড পাবেন
আর নকলের ভয় থাকবে না। অনলাইনে চাইলে দারাজ বা ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল স্টোর থেকে
কিনতে পারেন, তবে রিভিউ ভালো করে পড়ে নেবেন আর সেলারের রেটিং চেক করবেন। আমি
সবসময় বলি, বিশ্বস্ত জায়গা থেকে কিনলে পরে ঝামেলা কম হয়।
দামের কথা বললে, এখন ভালো মানের ১০,০০০ এমএএইচের পাওয়ার ব্যাংক ১,২০০ থেকে
২,৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর ২০,০০০ এমএএইচের মডেলগুলো সাধারণত ২,২০০ থেকে
৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়। Baseus বা Xiaomi-এর মতো নামকরা ব্র্যান্ড নিলে দাম
একটু বেশি লাগলেও লং টার্মে টাকা বেঁচে যায় কারণ এগুলো অনেকদিন চলে। সস্তায়
কিনতে গিয়ে যেন পরে আফসোস না করতে হয়, তাই বাজেট আর প্রয়োজন মিলিয়ে কিনুন।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সবকিছু মিলিয়ে বলতে গেলে, স্টুডেন্ট লাইফে পাওয়ার ব্যাংকটা আর শুধু একটা
অ্যাক্সেসরি নয়, এটা আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী। আমি যত রিভিউ দেখেছি আর নিজে
ব্যবহার করেছি, তাতে Baseus Adaman আর Xiaomi-এর মডেলগুলোই সবচেয়ে বেশি কাজের।
বাজেট আর প্রয়োজন বুঝে একটা ভালো মডেল বেছে নিলে ক্যাম্পাসের ঝামেলা অনেক কমে
যায়। তাই আর দেরি না করে আপনার রুটিনের সাথে মানিয়ে একটা কিনে ফেলুন। কিনে
অভিজ্ঞতা কেমন হলো সেটা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আপনার পড়াশোনা সুন্দর আর
ঝামেলামুক্ত থাকুক! 260416


