আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি জানতে চান? নতুন
ফ্রিল্যান্সারদের অনেকেই এই ফিচার ব্যবহার করে দ্রুত ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন।
সঠিকভাবে ক্যাটালগ সাজাতে পারলে আপনার সার্ভিস আরও বেশি মানুষের সামনে পৌঁছাবে।
কোথায় কী যোগ করবেন, কীভাবে ক্লায়েন্টের নজর কাড়বেন, আর কোন ভুলগুলো এড়িয়ে যাবেন,
সবই জানতে পারবেন এখানে। আপনার প্রোফাইলকে আরও পেশাদার করে তুলতে আজই দেখে নিন এই
বিস্তারিত আর্টিকেলটি।
পেজ সূচিপত্রঃ আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
ধরুন আপনি একটা দোকান খুললেন, কিন্তু কোনো সাইনবোর্ড নেই, কোনো পণ্য সাজানো নেই।
কাস্টমার আসবে কীভাবে? আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ হলো ঠিক সেই সাইনবোর্ড আর
সাজানো শোকেস। এটা না থাকলে ক্লায়েন্ট আপনাকে খুঁজেই পাবে না। অনেক
ফ্রিল্যান্সার ভাবে, "প্রোফাইল থাকলেই তো হয়।" কিন্তু সত্যিটা হলো-প্রোফাইল দেখে
ক্লায়েন্ট আপনাকে চেনে, আর প্রজেক্ট ক্যাটালগ দেখে আপনার কাজ কিনতে পারে। দুটো
আলাদা জিনিস। সহজ কথায়, প্রজেক্ট ক্যাটালগ হলো আপনার প্যাকেজড সার্ভিস।
যেমন-"আমি ৫ দিনে আপনার ব্যবসার লোগো বানিয়ে দেবো, দাম $৫০।" ব্যস। ক্লায়েন্ট
দেখলো, পছন্দ হলো, সরাসরি অর্ডার দিলো।
কোনো প্রপোজাল নেই, বিডিং নেই। এটা অনেকটা Fiverr-এর গিগের মতো, কিন্তু
আপওয়ার্কের নিজস্ব সিস্টেমে। ক্লায়েন্টের হাত থেকে টাকা যায়, আপনার হাতে কাজ
আসে-সহজ, পরিষ্কার। চলুন আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ
পদ্ধতি ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টা দেখে নেওয়া যাক।
প্রথমে আপওয়ার্কে লগিন করে নিচের ইমেজ এর মত আপনার প্রোফাইল এর উপর ক্লিক
করুন।
নিচে স্ক্রল করে "Your Project catalog" অপশন থেকে "Manage project" এ ক্লিক
করুন।
এরপর "Creat a Project" এ ক্লিক করুন।
এরপর ইমেজ এর মত আপনার পছন্দের টাইটেল দিন যেমনঃ "Professional Logo Design for
Your Brand in 3 Days" অথবা "SEO-Optimized Blog Post Writing for Your
Business"। আপওয়ার্ক আপনাকে একটা ক্যাটাগরি বেছে নিতে বলবে। যেমন-ওয়েব ডিজাইন,
গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং ইত্যাদি। সঠিক ক্যাটাগরি না বেছে নিলে আপনার
ক্যাটালগ ভুল জায়গায় দেখাবে, আর ভুল মানুষ আসবে। সময় নষ্ট, টাকা নষ্ট। একটু
সময় নিন। আপওয়ার্কের ক্যাটাগরি লিস্ট স্ক্রোল করুন, আপনার সার্ভিসের সবচেয়ে
কাছের ক্যাটাগরিটা বেছে নিন।
এরপর "Project attributes" আপনার ক্যাটেগরি অনুযায়ী সেট করুন।
এরপর ল্যাঙ্গুয়েজ এবং সার্চ ট্যাগ দিয়ে "Save and Continue" তে ক্লিক করুন।
তারপর পরের ধাপে আপনার প্রজেক্ট এর প্রাইজ এবং ধরন সেট করুন। আপওয়ার্ক
তিনটা প্যাকেজ তৈরির সুযোগ দেয়। এটা দারুণ সুযোগ কারণ বিভিন্ন বাজেটের
ক্লায়েন্টকে একসাথে ধরতে পারবেন।
এখানে সার্ভিস টাইয়ার গুলো সিলেক্ট করে নিচের মত প্রজেক্ট প্রাইজ গুলো সেট
করে নিন ও "Save and Continue" তে ক্লিক করুন।
এরপর "Project gallery" থেকে আপনার কাজের ধরণ অনুযায়ী একটা সুন্দর ইমেজ সেট করে
দিন ও "Save and Continue" তে ক্লিক করুন।
এরপর নিচের মত "Process" ধাপটি আসবে।
নিচের মত আপনার প্রজেক্ট রিকোয়ারমেন্ট লিখুন।
তারপর টাইটেল ও ডেসক্রিপশন দিয়ে "Save and Continue" তে ক্লিক করুন।
এবার "Project Description" থেকে "Project Summary" গুলো সিলেক্ট করে "Save and
Continue" তে ক্লিক করুন।
এরপর পরের ধাপে "Terms Of services" ও "Privacy Notice" এ টিক মার্ক দিয়ে "Submit
For Review" তে ক্লিক করুন।
এরপর নিচের মত দেখাবে রিভিউ সাবমিট করার পর।
রিভিউ সম্পুর্ণ হলে আপওয়ার্ক থেকে একটি নোটিফিকেশন আসবে।
নোটিফিকেশনে ক্লিক করার পর আপনি দেখতে পাবেন আপনার প্রজেক্ট আপ্রুভ হয়ে ভিসিবল
দেখাচ্ছে।
আপনার প্রজেক্ট এর উপর ক্লিক করলে আপনার বানানো প্রজেক্টি দেখেতে পাবেন।
একটা কথা সত্যিই মনে রাখার মতো-আপওয়ার্কে হাজারো ফ্রিল্যান্সার আছে, কিন্তু
ভালো প্রজেক্ট ক্যাটালগ খুব কম মানুষ বানায়। আপনি যদি সময় নিয়ে ঠিকমতো
বানান, তাহলে এটাই হবে আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা। ক্লায়েন্ট
আপনার কাছেই আসবে-কারণ আপনি তাকে স্পষ্ট বলেছেন সে কী পাবে, কতটুকু পাবে, আর
কতদিনে পাবে। এটুকুই যথেষ্ট।
প্রজেক্ট ক্যাটালগ কেন দরকার
আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি জানা থাকলে আপনার
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। ভাবুন তো-একজন ক্লায়েন্ট
আপওয়ার্কে এসেছেন, তার একটা কাজ দরকার, কিন্তু প্রপোজাল পাঠানোর ঝামেলায় যেতে
চাইছেন না। সে সময় প্রজেক্ট ক্যাটালগ হলো আপনার সেই দরজা, যেটা সে নিজেই খুলে
ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, প্রজেক্ট ক্যাটালগ মানে হলো আপনার
একটা রেডিমেড সার্ভিস প্যাকেজ। ক্লায়েন্ট দেখলেই বুঝতে পারবেন-কী পাবেন, কত দিনে
পাবেন, কত টাকায় পাবেন। এই স্বচ্ছতাটাই আসলে ক্লায়েন্টের মনে আস্থা তৈরি করে,
আর আস্থা মানেই অর্ডার।
এখন অনেকে ভাবেন, প্রপোজাল পাঠালেই তো হয়, ক্যাটালগ কেন লাগবে? কিন্তু সত্যি কথা
হলো, আপওয়ার্কে প্রতিদিন হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার প্রপোজাল পাঠাচ্ছেন-সেই
ভিড়ে আপনাকে আলাদা করে চেনার কোনো উপায় ক্লায়েন্টের নেই। প্রজেক্ট ক্যাটালগ
আপনাকে সেই ভিড় থেকে বের করে একটা নিজস্ব পরিচয় দেয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো,
একটা ভালো ক্যাটালগ মানে আপনি ঘুমানোর সময়ও কাজ পাচ্ছেন। আপনি অনলাইন নেই, তবুও
ক্লায়েন্ট আপনার ক্যাটালগ দেখে অর্ডার করে ফেলতে পারছেন। এটা শুধু একটা ফিচার
না-এটা আপনার ফ্রিল্যান্সিং বিজনেসকে একটু একটু করে অটোমেট করার শুরু।
কাজগুলো কীভাবে সাজাবেন
প্রজেক্ট ক্যাটালগ সাজানোর সময় সবার আগে ভাবুন-আপনার ক্লায়েন্ট আসলে কী
খুঁজছেন। আপনি যা ভালো পারেন সেটাকে ছোট ছোট প্যাকেজে ভাগ করুন, যেন একজন মানুষ
দেখেই বুঝতে পারেন এখানে ঠিক কী পাওয়া যাচ্ছে। একটা ক্যাটালগে সব কিছু গুঁজে
দেওয়ার দরকার নেই-বরং একটা কাজ, একটা ফোকাস, একটা স্পষ্ট বার্তা। টাইটেলটা
এমনভাবে লিখুন যেন ক্লায়েন্ট পড়েই থামেন। "আমি এটা করি" না বলে বলুন "আপনি এটা
পাবেন"-এই ছোট্ট পরিবর্তনটাই পুরো টোনটা বদলে দেয়। ডেসক্রিপশনে খুব বেশি
টেকনিক্যাল কথা না লিখে সহজ ভাষায় বলুন কাজটা শেষে ক্লায়েন্টের কী উপকার হবে,
কারণ ক্লায়েন্ট সুবিধা কিনতে আসেন, দক্ষতার লিস্ট পড়তে আসেন না।
প্রাইসিং আর ডেলিভারি টাইম ঠিক করার সময় একটু বাস্তববাদী হোন। খুব কম দামে দিলে
ক্লায়েন্ট মনে করেন কাজটা হয়তো ভালো হবে না, আবার অনেক বেশি দিলে নতুন অবস্থায়
অর্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। শুরুতে মাঝামাঝি একটা জায়গায় থাকুন, রিভিউ জমলে
দাম বাড়ানোর সুযোগ তো থাকছেই।
কোন কোন প্রজেক্ট দেখাবেন
এই প্রশ্নটা অনেকেই করেন-"আমার তো পোর্টফোলিও নেই, আমি কী দেখাবো?" সত্যি কথা
হলো, শুরুতে কারো কাছেই বড় পোর্টফোলিও থাকে না। আপনি এখন পর্যন্ত যা করেছেন,
প্র্যাকটিস হিসেবে হলেও, সেটাই আপনার শুরুর পুঁজি। নিজের করা যেকোনো একটা কাজ
দিয়েই ক্যাটালগ শুরু করা যায়, শুধু সেটা যেন গোছানো আর পরিষ্কার হয়। সবচেয়ে
বুদ্ধিমানের কাজ হলো আপনি যে ধরনের ক্লায়েন্ট পেতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখে
প্রজেক্ট বাছাই করা। ধরুন আপনি লোগো ডিজাইনার-তাহলে রেস্তোরাঁ বা ই-কমার্সের জন্য
বানানো লোগোগুলো দেখান, কারণ এই সেক্টরে কাজের চাহিদা বেশি।
ক্লায়েন্ট যখন দেখবেন আপনি তার ইন্ডাস্ট্রির কাজ আগেও করেছেন, তখন বিশ্বাসটা
অনেক দ্রুত তৈরি হয়। এমন প্রজেক্টগুলো রাখুন যেগুলো দেখতে ভালো এবং ফলাফল
স্পষ্ট। শুধু "আমি এই কাজটা করেছি" না বলে বলুন "এই কাজটার পরে ক্লায়েন্টের কী
পরিবর্তন এসেছে।" একটা বিফোর-আফটার গল্প বলতে পারলে সেটা যেকোনো সাধারণ
স্যাম্পলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর একটা কথা-সব কাজ দেখানোর
দরকার নেই, বেশি মানেই ভালো না। তিন থেকে পাঁচটা সেরা কাজ দিয়ে একটা শক্তিশালী
ক্যাটালগ হয়, কিন্তু দশটা মাঝারি কাজ দিয়ে ক্লায়েন্টকে কনভিন্স করা কঠিন। কম
হোক, কিন্তু প্রতিটা যেন আপনার সেরাটা বলে।
ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা
আপওয়ার্কে ক্লায়েন্ট প্রথমে আপনার কথা পড়েন না তিনি আগে দেখেন। একটা ঝকঝকে
থাম্বনেইল বা প্রফেশনাল ছবি ক্যাটালগকে মুহূর্তের মধ্যে আলাদা করে তোলে বাকি সবার
থেকে। তাই শুধু কাজের স্যাম্পল আপলোড না করে, সেটাকে সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করুন
ব্যাকগ্রাউন্ড পরিষ্কার রাখুন, রেজোলিউশন ভালো রাখুন, আর রঙের ব্যাপারে একটু
সচেতন থাকুন। ভিডিও যোগ করতে পারলে সেটা সত্যিই গেম চেঞ্জার হয়ে যায়। এক থেকে
দুই মিনিটের একটা ছোট্ট ভিডিও যেখানে আপনি নিজে বলছেন কী করেন আর কীভাবে করেন এটা
ক্লায়েন্টের মনে একটা মানবিক সংযোগ তৈরি করে।
আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতিতে ভিডিও প্রেজেন্টেশনকে
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটা হিসেবে ধরা হয়, কারণ মানুষ মানুষকে
বিশ্বাস করে, শুধু টেক্সট পড়ে না। ছবি বা ভিডিও যাই দিন না কেন, সেটা যেন আপনার
কাজের মান বলে আপনার চেহারা বা ভয়েস না। ক্যামেরার সামনে অস্বস্তি লাগলে স্ক্রিন
রেকর্ড করুন, কাজের প্রসেস দেখান, ফলাফল দেখান। ক্লায়েন্ট চান নিশ্চয়তা আর একটা
ভালো ভিজ্যুয়াল সেই নিশ্চয়তাটা কোনো কথা ছাড়াই দিয়ে দিতে পারে।
ভালো টাইটেল লেখার উপায়
টাইটেল হলো আপনার ক্যাটালগের প্রথম কথা আর প্রথম কথাটাই ঠিক করে দেয় ক্লায়েন্ট
ভেতরে ঢুকবেন কি না। অনেকে টাইটেলে লেখেন "I am a professional logo
designer"-এটা পড়ে ক্লায়েন্ট কিছুই অনুভব করেন না। বরং এমন কিছু লিখুন যেটা
পড়লে ক্লায়েন্ট মনে মনে বলেন "হ্যাঁ, এটাই তো আমার দরকার।" টাইটেলে সবসময়
ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধান রাখুন, আপনার পরিচয় না। "আমি কী করি" না বলে বলুন
"আপনি কী পাবেন"-এই একটা শিফটেই টাইটেলের পুরো শক্তি বদলে যায়। যেমন "Modern
Logo Design for Your Brand Identity" অনেক বেশি কার্যকর "Logo Designer with 5
Years Experience" এর চেয়ে, কারণ একটা ক্লায়েন্টের স্বপ্নের কথা বলে, আরেকটা
শুধু আপনার সিভির কথা বলে।
কীওয়ার্ডের কথাও মাথায় রাখুন, কারণ ক্লায়েন্ট সার্চ করে খোঁজেন। আপনার
সার্ভিসের সাথে মিলে যায় এমন শব্দগুলো স্বাভাবিকভাবে টাইটেলে রাখুন, জোর করে
গুঁজে দেবেন না। টাইটেলটা যেন পড়তে সহজ লাগে, বুঝতে সহজ লাগে-কারণ ক্লায়েন্ট
সময় নিয়ে বসে থাকেন না, তিনি স্ক্রল করতে করতে চলে যান।
প্রজেক্ট বর্ণনা লেখার নিয়ম
প্রজেক্ট বর্ণনা লেখার সময় সবচেয়ে বড় ভুল যেটা হয়-সেটা হলো নিজের কথা বলতে
বলতে ক্লায়েন্টের কথা ভুলে যাওয়া। আপনি কতটা অভিজ্ঞ, কতটা দক্ষ-এসব ক্লায়েন্ট
পরে জানতে চাইবেন। আগে তিনি জানতে চান এই কাজটা নিলে তার জীবনটা একটু সহজ হবে
কিনা। তাই বর্ণনার শুরুটা সবসময় ক্লায়েন্টের সমস্যা দিয়ে করুন, আপনার পরিচয়
দিয়ে নয়। ভাষাটা রাখুন সহজ আর কথ্য। ভারী ভারী টেকনিক্যাল শব্দ দিয়ে বর্ণনা
ভরিয়ে দিলে ক্লায়েন্ট আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, কারণ সবাই টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড
থেকে আসেন না। বরং এমনভাবে লিখুন যেন আপনি একজন বন্ধুকে বুঝিয়ে বলছেন-"আপনি
আমাকে কাজটা দিন, আমি এভাবে করব, আর শেষে আপনি এটা পাবেন।"
এই সরলতাটাই আসলে সবচেয়ে বড় প্রফেশনালিজম। বর্ণনার শেষ দিকে স্পষ্ট করে বলুন
ক্লায়েন্ট ঠিক কী কী পাবেন-ফাইল ফরম্যাট, রিভিশন সংখ্যা, ডেলিভারি সময়। এই ছোট
ছোট বিষয়গুলো আগে থেকে পরিষ্কার না থাকলে পরে ভুল বোঝাবুঝি হয়, আর সেটা দুই
পক্ষের জন্যই বিরক্তিকর। আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি
অনুসরণ করলে দেখবেন, একটা গোছানো বর্ণনাই ক্লায়েন্টের মনে সবচেয়ে বেশি আস্থা
তৈরি করে।
ক্যাটালগ আপডেট করার সময়
একটা ক্যাটালগ বানিয়ে ফেলে রাখলেই কাজ শেষ-এই ধারণাটা আসলে অনেকের ক্যারিয়ার
আটকে দেয়। বাজার বদলায়, ক্লায়েন্টের চাহিদা বদলায়, আর আপনিও প্রতিদিন একটু
একটু করে ভালো হচ্ছেন। তাই ক্যাটালগটাকেও সেই বদলের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে,
নাহলে পুরনো একটা দোকানের মতো দেখাবে যেখানে কেউ আর ঢুকতে চায় না। নতুন একটা
ভালো কাজ হলেই ক্যাটালগে যোগ করুন, আর পুরনো দুর্বল কাজগুলো সরিয়ে দিন। তিন থেকে
চার মাস পরপর একবার পুরো ক্যাটালগটা পড়ুন-নিজেই বুঝতে পারবেন কোন জায়গাগুলো এখন
আর আপনার মানের সাথে মিলছে না।
রিভিউ জমলে প্রাইসিং আপডেট করুন, কারণ আপনার দক্ষতা বাড়লে দামটাও সেটা প্রতিফলিত
করা উচিত। আপডেটের সবচেয়ে ভালো সময় হলো যখন আপনি লক্ষ্য করেন ক্লিক হচ্ছে
কিন্তু অর্ডার আসছে না। এই সংকেতটা মানে ক্লায়েন্ট আগ্রহী হচ্ছেন, কিন্তু ভেতরে
ঢুকে কিছু একটা তাকে থামিয়ে দিচ্ছে। সেটা টাইটেল হতে পারে, বর্ণনা হতে পারে, বা
দাম হতে পারে-একটু ঘেঁটে দেখুন, ছোট একটা পরিবর্তনেই অনেক সময় বড় ফলাফল আসে।
অন্যদের থেকে আলাদা হওয়ার টিপস
আপওয়ার্কে হাজারো ফ্রিল্যান্সার একই কাজ করেন-তাহলে ক্লায়েন্ট কেন আপনাকে বেছে
নেবেন? আপওয়ার্কে প্রজেক্ট ক্যাটালগ তৈরি করার সম্পূর্ণ পদ্ধতি যারা সত্যিকার
অর্থে বোঝেন, তারা জানেন যে আলাদা হওয়াটা মানে সবচেয়ে সস্তা হওয়া না বা
সবচেয়ে বেশি স্কিল দেখানো না। আলাদা হওয়া মানে হলো ক্লায়েন্ট যখন আপনার
ক্যাটালগ দেখেন, তখন মনে হয় "এই মানুষটা আমার কথা বুঝেছে।" নিজের একটা নির্দিষ্ট
স্পেশালিটি তৈরি করুন-সব কাজ সবার জন্য করি, এই পরিচয়টা আসলে কোনো পরিচয়ই না।
যদি আপনি শুধু রেস্তোরাঁর জন্য মেনু ডিজাইন করেন, বা শুধু স্টার্টআপের জন্য পিচ
ডেক বানান-তাহলে সেই নির্দিষ্ট ক্লায়েন্ট আপনাকে খুঁজে পেলে আর অন্য কাউকে
খুঁজবেন না।
ভিড়ের মাঝে সবার মতো হওয়ার চেষ্টা না করে, একটা ছোট্ট জায়গায় সবার সেরা
হওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার ব্যক্তিত্বটাকে ক্যাটালগে আসতে দিন-রোবটিক আর ফর্মাল
ভাষায় লেখা বর্ণনা পড়লে ক্লায়েন্ট কিছুই অনুভব করেন না। একটু উষ্ণতা, একটু
সততা, আর নিজের কাজের প্রতি আসল উৎসাহ-এগুলো লেখায় ফুটিয়ে তুলতে পারলে
ক্লায়েন্ট বুঝতে পারেন এখানে একজন মানুষ আছেন, শুধু একটা সার্ভিস প্রোভাইডার না।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
আপওয়ার্কে সফল হওয়াটা রাতারাতি হয় না-এটা আপনি নিজেও জানেন। কিন্তু একটা ভালো
প্রজেক্ট ক্যাটালগ আপনার যাত্রাটাকে অনেকটাই ছোট করে দিতে পারে। যারা শুরু থেকে
গুছিয়ে কাজ করেন, তারা অনেক আগেই সেই জায়গায় পৌঁছান যেখানে পৌঁছাতে অন্যদের
বছরের পর বছর লেগে যায়। আমি চাই আপনি শুধু পড়েই থামবেন না-জকেই একটা ছোট্ট
পদক্ষেপ নিন। হয়তো একটা টাইটেল লিখুন, হয়তো একটা পুরনো কাজের ছবি গুছিয়ে
রাখুন। শুরুটা নিখুঁত হতে হবে না, শুধু শুরু হলেই হবে-কারণ একটা অসম্পূর্ণ
ক্যাটালগও কোনো ক্যাটালগ না থাকার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।
শেষমেশ একটাই কথা-আপওয়ার্ক একটা সুযোগের জায়গা, কিন্তু সুযোগ নিজে থেকে দরজায়
আসে না। আপনার ক্যাটালগটাই সেই দরজা, যেটা ক্লায়েন্টের জন্য সবসময় খোলা থাকে।
সেই দরজাটা যত সুন্দর আর আমন্ত্রণমূলক হবে, ভেতরে আসার মানুষও তত বাড়বে। 260416




















